সাতক্ষীরায় বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন, প্লাবনের আশঙ্কা

সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীপুর-কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ গ্রামাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বাঁধসংলগ্ন এলাকার মানুষ।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কুড়িকাহুনিয়া এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশে ভাঙন ক্রমেই ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। জোয়ারের পানির চাপে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ আরও দুর্বল হয়ে পড়ছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে বাঁধ ভেঙে লবণাক্ত পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
বাঁধ রক্ষায় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে স্থানীয় বাসিন্দারাই জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন ঠেকানোর কাজে নেমেছেন। বস্তা, মাটি ও স্থানীয়ভাবে পাওয়া বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ রক্ষার চেষ্টা করছেন তারা।
স্থানীয়রা জানান, সময়মতো বাঁধ রক্ষা করা না গেলে জোয়ারের পানির চাপে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে। ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও মৎস্যঘের প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকটও দেখা দিতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সালেহ বলেন, কুড়িকাহুনিয়া বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিলে সোমবার সকাল থেকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে বাঁধ রক্ষার কাজ শুরু হয়। বাঁধ ভেঙে গেলে এলাকাবাসীর দুর্ভোগের শেষ থাকবে না। এর আগেও বহুবার বাঁধ ভেঙে মানুষ দুর্ভোগে পড়লেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
আশাশুনি উপজেলার ১০ নম্বর প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী বলেন, সাতক্ষীরার পূর্ব-দক্ষিণে আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়ন। প্রতিবছর একাধিকবার বেড়িবাঁধ ভেঙে ইউনিয়নের কোনো না কোনো এলাকা লবণপানিতে তলিয়ে থাকে। মানুষ ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই আবার বাঁধ ভাঙে। ২০০৯ সালে ঘূর্ণিঝড় আইলায় ঘরবাড়িহারা তিন শতাধিক পরিবার এখনো বাড়িঘরে ফিরতে পারেনি। সেই কথা মাথায় রেখে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বাঁধ রক্ষায় কাজ শুরু হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, ‘আমি শুনে ওই স্থান পরিদর্শনে ইতিমধ্যে রওনা হয়েছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’