logo

রংপুরে ৪ খুন, ঘাতক ছেলেকে নিজেই পুলিশ দেন বাবা

রংপুরে ৪ খুন, ঘাতক ছেলেকে নিজেই পুলিশ দেন বাবা
সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস ও ঘাতক আসামিরা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

রংপুর জেলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত এক শিক্ষক, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনার মূল অভিযুক্তকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন তার নিজের বাবা।

রোববার (২৩ আগস্ট) ভোরে অভিযুক্ত ছেলেকে নিজ উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেন বাবা বিনয় দাস।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নগরীর দেওয়ানবাড়ি এলাকার পিকে জুয়েলার্সের কর্মী সিদ্ধার্থ দাস এবং তার মামাতো ভাই সিটি বাজারের মাছ বিক্রেতা মুগ্ধ দাস। সিদ্ধার্থ নিহত শিক্ষক পরিবারের পাশের বাড়িতেই বসবাস করতেন।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় পরিবার নিয়ে নিজ বাড়িতে বসবাস করতেন। সিদ্ধার্থ গণপতিকে ‘স্যার’ এবং তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীকে ‘কাকি’ বলে ডাকতেন। গত শনিবার রাতে ওই ঘর থেকে গণপতি, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিন বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নিহতদের বাড়ির সামনে উৎসুক মানুষের উপচে পড়া ভিড়।

বাড়ির ভেতরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে সিদ্ধার্থের বাবা বিনয় দাস বলেন, ‘পুলিশ এসে সিদ্ধার্থের খোঁজ করলে আমিই তাকে চাচার বাড়ি থেকে ডেকে এনে পুলিশের হাতে তুলে দিই। আমার এক ছেলে ও প্রতিবেশীদের হারালাম। মাদকের কারণে আমাদের সন্তানরা ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।’ সিদ্ধার্থের মা পাপড়ী দাস বলেন, ‘আমার ছেলে খুব ভালো। ওকে মুগ্ধ নষ্ট করলো।’

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, গত বৃহস্পতিবার শেষ রাতের দিকে গণপতি চক্রবর্তীর বাসার ছাদে সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ ইয়াবা সেবন করছিলেন। তখন শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী বিষয়টি দেখে ফেলেন এবং প্রতিবাদ জানান। ঘটনা জানাজানি হওয়ার ভয়ে তারা দুজন মিলে গণপতি চক্রবর্তীসহ তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যা করেন।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় নগরীর কোতোয়ালি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত শেষে দ্রুত সময়ে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে।