logo

বেগুন, কলা ও লেবুর দামে আগুন

বেগুন, কলা ও লেবুর দামে আগুন

‘আমাদের দেশে রোজা আসলে নিত্যপণ্যের দাম বাড়ে। এবারও এর ব্যতিক্রম নেই। এখনই লেবু, বেগুন, কলার দামে আগুন ধরেছে।’ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বগুড়া শহরের পাইকারি রাজাবাজারে এসব কথা বলছিলেন বেসরকারি টেলিকমে কর্মরত যুবক আল আমিন।

শহরের কলোনি এলাকায় বসবাসকারী এই যুবক বলেন, ‘বাসায় ফেরার পথে রাজাবাজারে প্রায় আসা হয়। বৃহস্পতিবার নির্বাচনের আগে বেগুন কেনা হয়েছে ৩০ টাকায়। কলা ছিল ৩০-৪০ টাকা হালি, লেবুও ৩০ টাকা। আজ এগুলোর দাম শুনে মাথায় হাত। সবগুলোর দাম দ্বিগুণ হয়েছে।’

এমন অবস্থা বগুড়ার প্রায় সব হাটবাজারেই। রমজান ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে ফল, সবজিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। এতে নিম্নআয়ের মানুষসহ ভোগান্তিতে পড়েছেন সব ধরনের ভোক্তারা।

সোমবার বগুড়ার মহাস্থানহাট ও পাইকারি বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি মণ বেগুন ১৫০০-১৬০০ টাকা, শশা ২৫০০-২৬০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হয়েছে। খুচরা বাজারে বেগুন ও শশা-ক্ষিরাই বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৬০-৮০ টাকায়। পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৫০ টাকা, মরিচ ১২০-১৬০ টাকা, গাজর ২০-৩০ টাকা, টমেটো ৩০-৪০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা।

তবে মহাস্থান হাটে আলুর দাম কমেছে। স্থিতিশীল রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা, শিমসহ অন্যান্য সবজির দাম। এ ছাড়া রমজানের অত্যাবশকীয় ছোলা ও ডালের দাম আগের মতো আছে। প্রতি কেজি ছোলা ৯০-১১০ টাকা, মশুর ডাল ১১০-১৬০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। 

শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দাম বেড়েছে মাছ ও মুরগির মাংসে। কেজিতে ১০-২০ টাকা বাড়িয়ে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করা হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকায়। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকায়। প্রতি কেজি রুই মাছ ৩২০ টাকা, কাতল ৩৮০-৪০০ টাকা, বিগহেড সিলভারকার্প ২৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

মহাস্থানহাটের সফুরা আড়তের মালিক শফিকুল ইসলাম জানান, একদিনের ব্যবধানে বেগুন, শশা, লেবুর দাম বেড়েছে। গতকাল (রোববার) মহাস্থানহাটেও বেগুন বিক্রি হয়েছে ৭০০-৮০০ টাকা মণ। শশার দাম ছিল প্রতি মণ ১৩০০ টাকা। সাধারণত রমজানের শুরুতে কাঁচা সবজি, বিশেষ করে যেগুলো ইফতারিতে মানুষ খেতে পছন্দ করে, সেগুলোর দাম একটু বাড়তি থাকে। রোজা ৩-৫ দিন পর দাম একটু কমে আসে।

 

বিভিন্ন স্থানে লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। দুদিন আগেও প্রতি হালি লেবু ৩০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে বলে জানান এক বিক্রেতা।

বগুড়া শহরের কলোনি বাজারের কলা ব্যবসায়ী জাবেদ আলী বলেন, ‘দুই সপ্তাহ আগে থেকে কলায় হালি প্রতি অন্তত ৫ টাকা করে দাম বাড়িয়েছে পাইকাররা। যে সবরি কলা ৩০ টাকা হালি কিনেছি, সেটা এখন কিনতে হচ্ছে ৫৫-৬০ টাকায়।’

রমজানের শুরুতে কাঁচা সবজির দাম কিছুটা বাড়তি বলে জানিয়েছেন জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান। তিনি জানান, রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি মনিটরিং কার্যক্রম রোববার থেকে শুরু করা হয়েছে। কোথাও কোনো ব্যবসায়ী পণ্য যেন মজুত না করতে পারে, অতিরিক্ত দাম না নিতে পারে, আমরা মনিটরিং করছি। এমনটি কেউ করলে কঠোর ব্যবস্থা নেব।