সেন্টমার্টিনে এক ফাউন্ডেশনের ফ্রি খতনা কর্মসূচিতে ৫০ শিশু অসুস্থ, আশঙ্কাজনক ২

সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির দুই দিন পর অন্তত ৫০ শিশুর খতনার ক্ষতস্থানে ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ দেখা দিয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় দ্বীপজুড়ে উদ্বেগ দেখা দিলে আজ বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পরে দলটি সেন্টমার্টিনের ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পৌঁছে খতনার পর ইনফেকশনে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করে।
জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’ এর উদ্যোগে এই বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এসময় চিকিৎসক মো. আব্দুর রহিম রিফাতের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। পরে এসব শিশুদের মাঝে বিনামূল্যে ওষুধ প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী কয়েকজন পরিবারের অভিযোগ, খতনা করানোর পর থেকে শিশুদের ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও ইনফেকশনের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণ হতে শুরু করে। পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় তারা ফের চিকিৎসা নিতে বাধ্য হন।
খতনার পর ইনফেকশনে আক্রান্ত এক শিশুর বাবা কবির আহমেদ বলেন, দুদিন আগে সেন্টমার্টিনে আসা একটি মানবিক মেডিকেল টিমের কাছে আমার ছেলের খতনা করানো হয়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ছেলেকে ওষুধও খাওয়াই। তবে এরপর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। এ ঘটনাকে তিনি ভুল চিকিৎসার হিসেবে দাবি করেন।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, একটি মানবিক মেডিকেল টিমের সহায়তায় দ্বীপের ২১০ শিশুর খতনা করানো হয়। খতনা করানোর দুই দিন পর কয়েকজন শিশুর মধ্যে ইনফেকশন দেখা দেয়। বিষয়টি জানার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে অবহিত করা হয়। পরে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি মেডিক্যাল টিম সেন্টমার্টিনে গিয়ে এসব শিশুদের চিকিৎসাসেবা হচ্ছে।
টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. এনামুল হক বলেন, সেন্টমার্টিনে খতনার পর কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়ার পরপরই উন্নত চিকিৎসা সেবার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মেডিকেল টিম আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে অসুস্থ শিশুদের অনেকেই কিছুটা সুস্থতার দিকে ফিরছেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে তারা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে শিশুরা।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, খতনার পর কয়েকজন শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার বিষয়টি আমি শুনেছি। আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রেখে আক্রান্ত শিশুদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।
