‘ছেলেটা আমার পড়ালেখায় খুব ভালো আছিল রে’, আকাশকে হারিয়ে মায়ের কান্না

‘আমার পাঁচটা ছেলের মধ্যে আকাশ আছিল দুই নম্বর। ছেলেটি আমার পড়ালেখায় খুব ভালো আছিল রে... এবার এসএসসি পরীক্ষা দিত। এখন আমি কাকে নিয়া স্বপ্ন দেখুব!’ লালমনিরহাটের পাটগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থী আনোয়ার ইসলাম আকাশের মা মনোয়ারা বেগমের বিলাপ যেন থামছে না।
বুড়িমারী আমানতুল্ল্যা প্রধান স্কুল অ্যান্ড কলেজের এই মেধাবী শিক্ষার্থীর সামনেই ছিল এসএসসি পরীক্ষা। কিন্তু সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়কের ঘুন্টি এলাকায় ট্রাক ও অটোরিকশার সংঘর্ষে থেমে গেছে তার জীবনের সব আয়োজন। হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যু হয় তার। ঘটনায় আরও চারজন নিহত হন। তাদের এলাকায়ও চলছে মাতম।
আকাশের চাচা মোফাজ্জল হোসেন কেঁদে উঠে বলেন, আকাশ ছোটবেলা থেকেই খুব শান্ত ও মেধাবী ছিল। ক্লাসে সবসময় ভালো ফল করতো। এবার ভালো ফলের প্রস্তুতিও নিচ্ছিল। সকালে হাসিমুখে ঘর থেকে বের হলো, আর কিছুক্ষণ পর শুনলাম আমার ভাতিজা আর নেই। এই শোক ওর মা-বাবা কীভাবে সইবে?
ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই কাঁদছেন মা মনোয়ারা বেগম। আর পাশে বসে থাকা বাবা আবুল হোসেন বাকরুদ্ধ হয়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে আছেন শূন্যতার দিকে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে স্থানীয়রা জানান, বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী অটোরিকশাকে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক সরাসরি চাপা দিলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন এবং রংপুর হাসপাতালে নেওয়ার পথে আকাশের মৃত্যু হয়।
পুরো এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বারবার এমন প্রাণহানি বন্ধে অবিলম্বে বুড়িমারী-লালমনিরহাট মহাসড়ককে চার লেনে উন্নীত করা এবং দায়ী ট্রাক চালকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে অফিসার পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪জন নিহত ও ৭ জন আহতদের খবর পাওয়া গেছে।