logo

সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতার চাঁদাবাজি সম্পর্কিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা

সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতার চাঁদাবাজি সম্পর্কিত সংবাদের প্রতিবাদ ও ব্যাখ্যা
এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

এশিয়া পোস্টে প্রকাশিত ‘সাতক্ষীরায় সরকারি প্রকল্পে জামায়াত নেতার চাঁদা দাবি, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চায় পাউবো’ শীর্ষক প্রতিবেদনের প্রতিবাদ জানিয়ে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন অভিযুক্ত জামায়াত নেতা হাজী নজরুল ইসলাম। তার দাবি, ‘স্থানীয় একটি স্বার্থান্বেষী ও দখলদার চক্রের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এই মনগড়া সংবাদ পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।’

প্রতিবাদলিপিতে হাজী নজরুল ইসলাম ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, ‘স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের (হুলা নামক এলাকায়) নিজস্ব একটি বৈধ মৎস্যঘের ছিল, যা তিনি ১৬ বছর ধরে পরিচালনা করে আসছিলেন। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে সবুজ খান নামক এক ব্যক্তি তৎকালীন এক প্রভাবশালী নেতার আত্মীয় পরিচয়ে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মৎস্যঘেরটি সম্পূর্ণ অবৈধভাবে জোর-জবরদখল করে নেয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাসখানেক আগে সেই একই দখলদার চক্র জবরদখলকৃত মৎস্যঘেরের পাশের আরও প্রায় ১০ একর জমি চারদিক বেঁধে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার অপচেষ্টা চালায়। এই অবৈধ দখল প্রক্রিয়ায় তারা ওই জমির হাজার হাজার সামাজিক ও সরকারি গাছ ভেকু (এক্সক্যাভেটর) দিয়ে নির্বিচারে কেটে ফেলে।’

হাজী নজরুল ইসলামের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, ‘এই চক্রটি ‘আকাশনীলা’র সামনে প্রায় ১৫০ শতক জমি অবৈধভাবে দখল করে এবং সেখানে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসকারী ৭টি অসহায় পরিবারকে জোরপূর্বক উচ্ছেদের জন্য নানামুখী ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। এ ছাড়া এলাকার সাধারণ মানুষের পানি নিষ্কাশনের উন্মুক্ত পথটিও মাটি ভরাট করে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়ার হীন চেষ্টা চালায় এই চক্র। নির্বিচারে গাছ কাটা, পানির পথ বন্ধ এবং অসহায় পরিবার উচ্ছেদের এই জঘন্য কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে স্থানীয় জনগণ সোচ্চার হয়। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ডের দৃষ্টিগোচরে আনা হলে তাদের নির্দেশনায় এসিল্যান্ড সরেজমিনে গিয়ে অবৈধভাবে দখলকৃত জায়গাটি দখলমুক্ত ও সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ঘোষণা করেন।’

হাজী নজরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘চেয়ারম্যান সাহেব এলাকার সাধারণ মানুষের স্বার্থে এবং অসহায় পরিবারগুলোর সুরক্ষায় এই সকল অবৈধ কার্যকলাপে তীব্র বাধা প্রদান করেন। প্রশাসনের মাধ্যমে দখলমুক্তির পর ওই স্বার্থান্বেষী চক্রটি নিজেদের অপরাধ ঢাকতে এবং জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে গণমাধ্যমকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে চেয়ারম্যান ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে এই সাজানো ও মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন ইতোপূর্বেও করিয়েছে।’

প্রতিবেদকের বক্তব্য

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানের অনুরোধও করেছে পাউবো। সংবাদ প্রকাশের আগে এ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে অভিযুক্তের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রতিবেদনে তার বক্তব্যও গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগের বিষয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এস এম রাজু আহমেদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শেখ মঈনুল ইসলাম মঈন এবং প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুজ্জামান ভূঁইয়ার বক্তব্যও প্রকাশিত হয়েছে।