জ্বালানি সংকটে চট্টগ্রামে ১১ বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ

জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১১টিই বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। এতে নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রামের কেন্দ্রগুলোর মোট উৎপাদন ছিল ১,৩৮০.৫৩ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যা ৭টার দিকে কিছুটা কমে ১,৩৫৩.৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে। দিনের ব্যবধানে উৎপাদন কমেছে প্রায় ২৭ মেগাওয়াট।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, আনলিমা ১১৬ মেগাওয়াট, জুলদা-২ ও ৩, রাউজান ১ ও ২ এবং কাপ্তাইয়ের তিনটি ইউনিটসহ মোট ১১টি কেন্দ্র সারা দিনই বন্ধ ছিল। এছাড়া কক্সবাজার উইন্ড প্ল্যান্ট থেকেও কোনো বিদ্যুৎ মেলেনি। দোহাজারী কেন্দ্রটি সকালে বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যায় ৫০ মেগাওয়াট উৎপাদন শুরু করে। তবে এনার্জিপ্যাক কেন্দ্রটি সকালে ১১ মেগাওয়াট উৎপাদন করলেও সন্ধ্যার পর তা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ চাহিদার বড় অংশই পূরণ করছে এসএস পাওয়ার (বাঁশখালী) এবং মাতারবাড়ি কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এর মধ্যে বাঁশখালী কেন্দ্রটি সন্ধ্যায় সর্বোচ্চ ৬১২ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করেছে, যা চট্টগ্রাম অঞ্চলের মোট উৎপাদনের প্রায় ৪৫ শতাংশ। এছাড়া শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্রটি ধারাবাহিকভাবে ২১৪-২১৮ মেগাওয়াট উৎপাদন বজায় রেখেছে।
অঞ্চলটিতে উৎপাদিত বিদ্যুতের একটি অংশ জাতীয় গ্রিডে পাঠানো হচ্ছে। বেলা ১১টায় এর পরিমাণ ছিল ৮৮.৯৩ মেগাওয়াট, যা সন্ধ্যায় বেড়ে দাঁড়ায় ১৪২.৩০ মেগাওয়াটে। বিপরীতে চট্টগ্রামের স্থানীয় ব্যবহারের পরিমাণ সন্ধ্যায় কমে ১,১৪২.২০ মেগাওয়াট হয়েছে।
চট্টগ্রাম পিডিবির সুপারভাইজরি কন্ট্রোল অ্যান্ড ডাটা অ্যাকুইজিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। গ্যাসের চাপ কম এবং জ্বালানি তেলের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, সরবরাহের ওপর নির্ভর করে লোডশেডিংয়ের মাত্রা পরিবর্তিত হচ্ছে। সামনের দিনগুলোতে লোডশেডিং পরিস্থিতি এরচেয়ে অবনতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে।