logo

মেহেরপুরে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২৫

মেহেরপুরে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ২৫

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন। 

সোমবার (২৩ মার্চ) উপজেলার সাহারবাটি গ্রামের কড়ুইতলা পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, দবির উদ্দীন গ্রুপের রিয়া খাতুন (৪০), মিঠুন আলী (৩২), উজ্জ্বল হোসেন (৩৮), মুন্তাজ আলী (৫০), শরিফুল ইসলাম (৪৩) ও রফিকুল ইসলাম (৬০)। ফরমান আলী গ্রুপের আসমাউল হুসনা (২৬), মুকুল হোসেন (৪৫), আসিফ হোসেন (২৫), তকুল হোসেন (৫০), হামিদুল ইসলাম (৫০), আইনাল হক (৬০) ও বরকত আলী (৪০)-সহ আরও অনেকে আহত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ওই দলের সমর্থক হিসেবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আব্বাস আলীর পরিবারের কাছে বিএনপি-সমর্থক দবির উদ্দীনের গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল। এর আগে গোপনে কিছু টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে পুনরায় চাঁদা দাবি করলে পরিবারটি তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়।

এ বিষয়ে আব্বাস আলী অভিযোগ করে বলেন, ‘৫ আগস্টের পর থেকে আওয়ামী লীগ করার অভিযোগে আমাদের কাছে চাঁদা দাবি করা হয়। আগে কিছু টাকা দিয়েছি। কিন্তু আবার টাকা চায় তারা। টাকা দিতে না করায় সকালে দবির ও তার দুই ভাই আমার বাবা-মাকে লোহার রড দিয়ে মারধর করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বাবা-মাকে স্থানীয়রা গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। বাবার অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।’
 
এ ঘটনার জেরে রাত ৮টার দিকে দবির উদ্দীন গ্রুপ ও সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলীর সমর্থকদের মধ্যে ফের সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২৫ জন আহত হন।

 

আহতদের ১৫ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত রিয়া খাতুন ও শরিফুল ইসলামকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া আসমাউল হুসনাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দবির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আব্বাস মেম্বার ও তার বাবা আমার ওপর চরম নির্যাতন করেছে। তারা আমার গোয়াল থেকে গরু-ছাগল নিয়ে গেছে। মাঠের ফসল ঘরে তুলতে দেয়নি। তাই মাইরের বদলে মার দেওয়া হয়েছে।’

এ সময় তিনি দাবি করেন, তার দুই ভাই আব্দুল খালেক ও মালেক আহত হয়েছে।

সাবেক ইউপি সদস্য ফরমান আলী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘একজন বৃদ্ধ মানুষের ওপর হামলা খুবই ন্যক্কারজনক। আমি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এটি রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক বিরোধের জেরেই ঘটেছে। দবির দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় জুলুম চালিয়ে আসছে।’

মেহেরপুর জেলার পুলিশ সুপার উজ্জ্বল কুমার রায় বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। সেখানে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’