logo

‘সংস্কারের আগেই ভালো ছিল, এখন রাস্তা না খাল বোঝা যায় না’

লোকমান হাকিম
কক্সবাজার
‘সংস্কারের আগেই ভালো ছিল, এখন রাস্তা না খাল বোঝা যায় না’
কক্সবাজারে খুরুশকুল পুরানবোর্ড থেকে পিএমখালীর চেরাংঘর পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের বেহাল দশা। ছবি: এশিয়া পোস্ট

সংস্কারের তিন মাস না পেরোতেই ভেঙে পড়েছে কক্সবাজার সদরের খুরুশকুল পুরানবোর্ড থেকে পিএমখালীর চেরাংঘর পর্যন্ত সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশ। সড়কটির কোথাও উঠে গেছে কার্পেটিং, কোথাও তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত। দুপাশে দেখা দিয়েছে ভাঙন। বৃষ্টির পানি জমে অনেক জায়গায় সড়কটি দেখে বোঝার উপায় নেই এটি রাস্তা, নাকি খাল। অথচ, এই সড়ক সংস্কারে ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের ভাঙা ও কাঁদাযুক্ত অংশ দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে অটোরিকশা থেকে নেমে হেঁটে যাচ্ছেন যাত্রীরা। গাড়ির আগে যাত্রীরাই হেঁটে পার হচ্ছে ভাঙা অংশ। পথচারীদের অভিযোগ, ভাঙা সড়কে প্রায়ই অটোরিকশা উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনা ঘটছে।

অপরদিকে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও খুরুশকুল পুরানবোর্ড থেকে পিএমখালীর চেরাংঘর পর্যন্ত সড়কটির এমন বেহাল দশা দেখে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সংস্কার কাজে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের ফলে কাজ শেষ হওয়ার পরই সড়কটি ভেঙে পড়েছে।

সরজমিনে কথা হলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১৫ হাজার মানুষ চলাচল করেন। এরই মধ্যে সাড়ে ৫ কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন অংশে প্রায় ৬০০ মিটার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উঠে গেছে প্রায় ৪০০ মিটার অংশের কার্পেটিং। অতিবৃষ্টির পর পানি জমে এসব স্থানে দেখা দিয়েছে ভাঙন।

খুরুশকুল ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নাছির উদ্দিন বলেন, ‘সংস্কারের আগে রাস্তা অনেক ভালো ছিল। এখন রাস্তা না খাল বোঝা যায় না। এ রাস্তা দিয়ে প্রায় প্রতিদিন ১৫ হাজার মানুষের চলাচল।’

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অর্থায়নে সড়কটির সংস্কার কাজ করছেন নিটা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।

ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রকল্পে কার্পেটিং, কিছু জায়গায় নালা বা ড্রেন এবং কোথাও কোথাও ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি গাইডওয়াল নির্মাণের কাজ রয়েছে। এর বাইরে বড় ধরনের কোনো কাজ নেই। সড়কটির প্রস্থ শুরুতে প্রায় ৩ মিটার এবং শেষের দিকে সাড়ে ৩ মিটার।

এদিকে খুরুশকুলের বাসিন্দা মো. আবছার বলেন, ‘নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করার সময় আমরা কাজে বাধা দিয়েছিলাম। কিন্তু ঠিকাদার আমাদের কথা আমলে নেননি। এ কারণে তিন মাস না যেতেই রাস্তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে।’

খুরুশকুল ৬নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য স্বপন দে বলেন, ‘রাস্তা ভেঙে গেছে দেখেছি। এটি ইউপি পরিষদের কাজ নয়। তবে আমরা বিষয়টি ইউএনও ও এলজিইডি অফিসকে জানিয়েছি।’

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান নিটা এন্টারপ্রাইজের পক্ষে ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা হলেও ওয়ার্ক অর্ডার অনুযায়ী অনেক স্থানে জায়গা স্বল্পতার কারণে কাজ করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রকৃত ব্যয় প্রস্তাবিত অর্থের চেয়েও কম হবে।

তিনি বলেন, ‘ড্রেন, গাছপালা ও বাড়িঘরের কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে গেছে। এ কারণে সেখানে কাজ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের কাজ ছিল কার্পেটিং, কোথাও কোথাও নালা নির্মাণ এবং কোথাও কোথাও ৩-৪ ইঞ্চি গাইডওয়াল নির্মাণ।’

সড়কটির প্রায় ৪০০ মিটার কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়ে ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্নস্থানে পানি জমে কার্পেটিং উঠে গেছে। তবে কার্পেটিংয়ের নিচে কী রয়েছে, সেটি দেখার বিষয় তাদের নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কক্সবাজার সদর উপজেলা প্রকৌশলী আল মুইন শাহরিয়ার বলেন, ‘পানি প্রবাহের সমস্যার কারণে রাস্তা ভেঙে গেছে। আরও কিছু ড্রেনের কাজ বাকি আছে। এসব কাজ শেষ হলে আমরা রাস্তার কাজ বুঝে নেব।’