সুন্দরবনে টেলিটকের নেটওয়ার্ক বিপর্যস্ত, যোগাযোগে বিভ্রাট

তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার পরপর দেখা দিয়েছে মোবাইল যোগাযোগের বিপর্যস্ত অবস্থা। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের কটকা, দুবলার চর আলোরকোল ও অফিসকেল্লায় টেলিটকের তিনটি টাওয়ারের জেনারেটর বিকল হয়ে পড়েছে। এতে যোগাযোগে বিভ্রাটে পড়েছেন সুন্দরবনে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটক, জেলে, বনজীবী ও বন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার তানভীর ইমরান বলেন, গত সোমবার (৩১ আগস্ট) সকালে হঠাৎ কটকায় থাকা টেলিটক টাওয়ারের দুটি জেনারেটর বিকল হয়ে যায়। এর পরপর দুবলার চর আলোরকোল ও অফিসকেল্লায় থাকা টেলিটকের টাওয়ারও অচল হয়ে পড়ে। সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় টেলিটকের মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি বলেন, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ শুরু হয়েছে। এ সময়ে মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ থাকায় পর্যটকরা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না। পাশাপাশি সাগর ও সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়া জেলে-বনজীবী এবং বন বিভাগের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে।
সুন্দরবনের মোবাইল যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম টেলিটকের তিনটি টাওয়ার অকার্যকর হয়ে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সুন্দরবনের বনরক্ষীরা। একই সঙ্গে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর সুন্দরবন উন্মুক্ত হওয়ার পর গত দুই দিনে বনে প্রবেশ করা দেশি-বিদেশি পর্যটক, জেলে ও বনজীবীরাও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, গত তিন দিন ধরে সুন্দরবনে টেলিটকের নেটওয়ার্ক বিপর্যয়ের কারণে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন রয়েছে। কিছুদিন পরপরই সুন্দরবনে টেলিটকের নেটওয়ার্কে এ ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে টেলিটকের খুলনা বিভাগীয় ইনচার্জ নুর আলম বলেন, সুন্দরবনের কটকাসহ তিনটি টেলিটক টাওয়ারের জেনারেটর একসঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মোবাইল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জেনারেটর মেরামতের জন্য সুন্দরবনে লোক পাঠানো হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মোবাইল যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়ে যাবে।



