ইট হাতে নিতেই সাহেবের মাথায় গুলি, খালে পড়ে গেলে ফের গুলি করেন রনি

ভাইকে গুলি করা হয়েছে, মারধর করা হচ্ছে তার সহযোগীকেও—এমন খবর পেয়ে ছেলে সজিবকে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান সাহেব আলী। সেখানে গিয়ে প্রতিপক্ষের রনিকে মারতে ইট হাতে নেন তিনি। এ সময় সাহেব আলীর মাথায় গুলি করেন রনি। গুলিবিদ্ধ হয়ে খালে পড়ে যান সাহেব আলী। পরে তাকে লক্ষ্য করে আবারও গুলি করা হয়।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়াপদা কলোনি বউবাজার এলাকার ইত্তেহাদ টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত সাহেব আলীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে রাত ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী মৃত্যুর বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গুলিবিদ্ধ হয়ে পড়ে যাওয়ার পরও হেব আলীকে লক্ষ্য করে দুই যুবক হামলা চালাচ্ছেন। একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজনকে ইট ছুড়তেও দেখা যায়। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার সূত্রপাত রবিউল ও হাফিজকে ঘিরে। রবিউল সাহেব আলীর ভাই। রবিউলকে এবং তার সহযোগী হাফিজকে মারধর করা হচ্ছে—এমন খবর পেয়ে সাহেব আলী ছেলে সজিবকে সঙ্গে নিয়ে খালি গায়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে প্রতিপক্ষের রনির সঙ্গে তার উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। একপর্যায়ে রনিকে আঘাত করতে একটি ইট হাতে নেন সাহেব আলী। ঠিক তখনই রনি তাকে মাথায় গুলি করেন।
গুলিবিদ্ধ হয়ে সাহেব আলী পাশের খালে পড়ে যান। এরপর রনি আবার গুলি করার চেষ্টা করেন। প্রথমবার গুলি না হওয়ায় অস্ত্রটি পুনরায় প্রস্তুত করে আবার গুলি ছোড়েন রনি। পরে রনি ও সাজ্জাদ ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বর্ণনায় উঠে এসেছে।
গুরুতর আহত অবস্থায় সাহেব আলীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও এসআরবির-১১ সদস্যরা অবস্থান নেন। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, হত্যা, ছিনতাই, অস্ত্র ও নারী নির্যাতন, অস্ত্রআইনসহ মোট ১৫ টি মামলা রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের বউবাজার এলাকায় তৎকালীন র্যাব-১১-এর ওপর অতর্কিত হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততার কথা জানায় পুলিশ। এছাড়া চলতি বছরের আগস্টে ওয়াপদা কলোনি এলাকায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাতেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে পুলিশ দাবি করেছে।
নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) তারেক আল মেহেদী এশিয়া পোস্টকে জানান, প্রাথমিকভাবে তদন্তে দুজনের নাম সামনে এসেছে। যিনি গুলি করেছেন তার নাম রনি এবং সহযোগী সাজ্জাদ। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও বলেন, সাহেব আলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫টি মামলা রয়েছে। গত বছর তাকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে জামিনে মুক্তি পান।
