logo

ডিবির জালে ‘র’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর ৪ সদস্য

ডিবির জালে ‘র’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর ৪ সদস্য
কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আলোচিত দুই কিশোর গ্যাং ‘র’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর চার সক্রিয় সদস্য গ্রেপ্তার। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযানে আলোচিত দুই কিশোর গ্যাং ‘র’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর চার সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে হত্যা, ছিনতাই, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামিও রয়েছেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

জেলা পুলিশ জানিয়েছে, পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশনায় গত ১০ দিন ধরে কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ও ডিবির সমন্বয়ে কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চলছে। এ সময় সন্দেহজনক দুই হাজারের বেশি কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অপরাধে সম্পৃক্ততা না পাওয়া কিশোরদের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজার জেলা ও কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় ডিবি পুলিশ। অভিযানে কুমিল্লার আলোচিত দুই কিশোর গ্যাং ‘র’ ও ‘ক্রাইম সেটআপ’-এর নেতৃত্বস্থানীয় চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন ‘র’ গ্যাংয়ের ইমরান হোসেন রতন (১৯) ও সাইফুল ইসলাম (২০) এবং ‘ক্রাইম সেটআপ’ গ্যাংয়ের মো. সাব্বির ওরফে পয়েন্ট সাব্বির (২৪) ও রবিউল ইসলাম নবী ওরফে কিং মেকার (২৪)।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ইমরান হোসেন রতনের বাবার নাম মৃত আবুল কাশেম। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ মোট নয়টি গুরুতর মামলা রয়েছে। সাইফুল ইসলামের বাবার নাম আক্তার হোসেন মোল্লা। তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা চলমান রয়েছে।

‘ক্রাইম সেটআপ’-এর শীর্ষ নেতা হিসেবে পরিচিত মো. সাব্বির ওরফে পয়েন্ট সাব্বিরের বাবার নাম আব্দুল করিম। তার বিরুদ্ধে একটি মামলা রয়েছে। একই গ্যাংয়ের রবিউল ইসলাম নবী ওরফে কিং মেকারের বাবার নাম নাসির উদ্দিন। তার বিরুদ্ধেও একটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামান বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মোটরসাইকেল মহড়া এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এসব কর্মকাণ্ড ঠেকাতে চলমান অভিযানে অপরাধে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, তারা কার সঙ্গে মিশছে এবং কোথায় যাচ্ছে—এসব বিষয়ে সচেতন থাকার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান রইল।