সীমান্তবর্তী এলাকায় অপরাধ রোধে উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ বিজিবির

সীমান্তবর্তী এলাকার তরুণ ও যুবসমাজকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রেখে তাদের দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও সফল উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে ভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও অন্যান্য সীমান্ত অপরাধ কমানোর দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ হিসেবে নওগাঁয় শুরু হয়েছে মাসব্যাপী কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
রোববার (৯ আগস্ট) ১৬-বিজিবির সার্বিক ব্যবস্থাপনায় নওগাঁর সাপাহার উপজেলার আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সীমান্ত টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার’-এর যাত্রা শুরু হয়।
সেন্টারটির প্রথম ব্যাচের তরুণদের মাসব্যাপী নিবিড় কারিগরি প্রশিক্ষণের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
আয়োজিত এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন পর্বে প্রধান অতিথি ছিলেন ১৬-বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম। তিনি ফিতা কেটে এ বিশেষ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সীমান্তবর্তী অঞ্চলের অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা ও বেকারত্ব যুবসমাজকে সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধের দিকে ঠেলে দেয়। এই বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে বিজিবি কেবল সীমান্ত সুরক্ষাতে সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয় জনগণের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরাসরি ভূমিকা রাখার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। প্রথম ব্যাচে সীমান্তসংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামের ৩০ জন সম্ভাবনাময় যুবককে বাছাই করে প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।
মাসব্যাপী এই নিবিড় প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের আধুনিক মোবাইল সার্ভিসিং, মোবাইল ডিভাইস অপারেটিং এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের ব্যবহারিক শিক্ষা প্রদান করা হবে। কেবল কারিগরি দক্ষতাই নয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণরা যেন ভবিষ্যতে স্বাধীনভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন—সে লক্ষ্যে একজন সফল যুব উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বাস্তবভিত্তিক ব্যবসায়িক জ্ঞানও দেওয়া হবে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আরিফুল ইসলাম মাসুম বলেন, সীমান্তে স্থায়ী শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলে সেখানকার যুবসমাজকে সঠিক পথে চালিত করা অত্যন্ত জরুরি। বেকারত্ব দূর করে তরুণদের হাতের কাজ শেখানো এবং তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে পারলে তারা কোনো অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হবে না। বিজিবির এই ধারাবাহিক উদ্যোগ কেবল সীমান্তকে অপরাধমুক্ত করবে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতেও এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তিনি আরও বলেন, এই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে দক্ষতা অর্জন করে তরুণরা স্বাবলম্বী হবেন এবং নিজেদের এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবেন। বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমূলক সামাজিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয় আইহাই ইউনিয়ন পরিষদ হলরুমে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী আয়োজনে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিজিবির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাপাহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমানা রিয়াজ, আইহাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউজ্জামান টিটু এবং ১৬ বিজিবির সহকারী পরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার মিলটন আলীসহ এলাকা ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।



