logo

নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র ইমনের সন্ধান মেলেনি এক সপ্তাহেও

নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র ইমনের সন্ধান মেলেনি এক সপ্তাহেও
নিখোঁজ মাদ্রাসাছাত্র মাহফুজুর রহমান ইমন। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফেনী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিরিঞ্চি এলাকা থেকে বাবার ব্যাটারিচালিত ‘মিশুক’ রিকশা নিয়ে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়া মাদ্রাসাছাত্র মাহফুজুর রহমান ইমনের (১৫) সন্ধান এক সপ্তাহেও মেলেনি। সন্তানের হদিস না পাওয়ায় ভেঙে পড়েছে দরিদ্র পরিবারটি। ইমন স্থানীয় বিরিঞ্চি সুফিয়া নূরীয়া মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফিরে সংসারের খরচে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বাবা মো. শহীদুল ইসলাম সুজনের মিশুক রিকশাটি নিয়ে বের হয় ইমন। এরপর রাত গড়িয়ে সকাল হলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে ২৯ সেপ্টেম্বর সকালে ফেনী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি দায়ের করেন স্বজনরা।

অভিযোগ পেয়ে অনুসন্ধানে নেমে পুলিশ ফেনীর ফতেহপুর এলাকার রাস্তার পাশ থেকে ব্যাটারি ছাড়া পরিত্যক্ত অবস্থায় ইমনের রিকশাটি উদ্ধার করে। তবে রিকশা উদ্ধার হলেও ইমনের কোনো খোঁজ মেলেনি।

এ নিয়ে গত ১ অক্টোবর পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী আগমন উপলক্ষে একটি ব্যানার নিয়ে নিখোঁজ ছেলেকে উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন। ব্যানারটি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এ ছাড়া পরিবারের পক্ষ থেকে নিখোঁজ ছেলেটিকে উদ্ধারের বিষয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে পোস্টার লাগানো হয়েছে। দীর্ঘ এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পাওয়ায় পরিবারে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে।

ইমনের বাবা মো. শহীদুল ইসলাম সুজন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘আমার ছেলে সুফিয়া নূরীয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। বিকেলে আমাকে গাড়ি চালিয়ে একটু সাহায্য করত। ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে সে আর ফেরেনি। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে মঙ্গলবার সকালে থানায় জিডি করেছি। কিন্তু এক সপ্তাহ পার হলেও পুলিশ আমার ছেলেকে উদ্ধার করতে পারেনি। আমি এখন কার কাছে যাব? কাকে বলব? কাকে বললে আমার ছেলে উদ্ধার হবে, কিছুই বুঝতে পারছি না। এ বিষয়ে আমি তারেক রহমান সরকারের সহযোগিতা কামনা করছি।’

ইমনের ভাই মোশারফ হোসেন এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘পুলিশ যদি আরও জোরেশোরে শহরের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো পরীক্ষা এবং জোরদার তল্লাশি অভিযান চালাত, তবে হয়তো আমার ভাইকে দ্রুত উদ্ধার করা যেত। ভাইকে সশরীরে ফেরত পেতে আমি ফেনীর পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘জিডি দায়েরের পর থেকে পুলিশ অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে ছেলেটিকে উদ্ধারের বিষয়ে কাজ করছে। শহরের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যের বিষয়, এখনও সুনির্দিষ্ট কোনো ক্লু পাওয়া যায়নি। তবে আমরা আশাবাদী।’

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার এশিয়া পোস্টকে জানান, ‘বিষয়টি জানার পর থেকেই পুলিশ ছেলেটিকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছে। পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো মনিটরিং করা হচ্ছে। নিখোঁজ ইমনের সন্ধানে পুলিশের একাধিক ইউনিট মাঠে কাজ করছে।’