পালিয়ে যেতে বাড়ি থেকে সড়ক পর্যন্ত ২০ ক্যামেরা, তবুও ধরা ‘হ্যাকার সর্দার’

গ্রেপ্তার এড়াতে প্রধান সড়ক থেকে নিজের বাড়ি পর্যন্ত ২০টি সিসি ক্যামেরা বসিয়েও শেষ রক্ষা হলো না নাটোরের লালপুরের বিলমাড়িয়া ও দুড়দুড়িয়া এলাকার কথিত ‘হ্যাকার সর্দার’ ওহিদুল মোল্লা ওরফে ওহিদের। লালপুর থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে তার বাড়ি থেকে পাঁচ সহযোগীসহ তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৯টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, বিভিন্ন কোম্পানির ৬৮টি সিম কার্ড, ইয়াবা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের ওহিদুলের টিনশেড বাড়িতে এ অভিযান চালানো হয়।
পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে হ্যাকিং ও অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে ওহিদুলের ওপর নজরদারি করা হচ্ছিল। বাড়ির আশপাশে সিসি ক্যামেরা থাকায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি একাধিকবার পালিয়ে যেতে সক্ষম হন। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে সহযোগীদেরসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন—লালপুর উপজেলার মোহরকয়া গ্রামের রব্বেল মোল্লার ছেলে ওহিদুল মোল্লা, একই গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে সাব্বির হোসেন, মৃত বেলাল আলীর ছেলে মোতাকাব্বির আলী, বিলমাড়িয়া গ্রামের মৃত কফের আলীর ছেলে শুকুর আলী, পানসিপাড়া মহল্লার আতাহার প্রামাণিকের ছেলে আলামিন এবং রাজশাহীর বাঘা থানার আলাইপুর গ্রামের সামাদ মন্ডলের ছেলে মুক্তার আলী।

লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, বাড়ির আশপাশে সিসি ক্যামেরা বসিয়ে নিরাপদে অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিলেন ওহিদুল মোল্লা। দীর্ঘদিন ধরে তার ওপর নজরদারি করছিল পুলিশ। সিসি ক্যামেরার কারণে তাকে গ্রেপ্তারে বেশ কয়েকবার বেগ পেতে হয়েছে। পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পারলেই তিনি পালিয়ে যেতেন।
ওসি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহরকয়া গ্রামের ওহিদুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় চক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ৯টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন কোম্পানির ৬৮টি সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া ইয়াবা ও মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মেসেজিং অ্যাপের আইডি হ্যাকিং এবং অনলাইন প্রতারণার সঙ্গে জড়িত। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পৃথক মাদক মামলা করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
