রংপুরে ৪ খুন: সিদ্ধার্থ-মুগ্ধকে নিয়ে পরিবারের নতুন তথ্য

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় (দাসপাড়া) অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার রাতে নিজ বাড়িতে ছিলেন না অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। হত্যাকাণ্ডের রাতে তাদের বাড়িতে না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিযুক্তদের অভিভাবকরা।
তবে মরদেহের সংবাদ পাওয়ার পর সিদ্ধার্থ দাসকে আশপাশে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় এবং পরে তিনি পাশের একটি বাড়িতে গিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। অন্যদিকে, মুগ্ধ দাস পরে নিজ বাড়িতেই অবস্থান করছিলেন। তবে পুলিশি অভিযানের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে তাকে আটক করা হয়।
মুগ্ধ দাসের মা সেনা দাস জানান, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে আমরা রাতের খাবার শেষ করে শুয়ে পড়ি। মুগ্ধ নিজ কক্ষে চলে যায়। আমি এবং আমার মা গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে পড়ি। সকালে উঠে বাসার কাজকর্ম শেষ করে তার কক্ষে গিয়ে দেখি সে নেই। সে কখন ঘর থেকে বেরিয়ে গিয়েছিল, তা আমি জানতাম না।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে বাসায় ফেরার পর তাকে বাজারে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে সে জানায়, বল খেলতে গিয়েছিল। এরপর আমি আবার নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। তবে ছেলে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে—এমন আশঙ্কায় মাসখানেক আগেই তাকে সতর্ক করেছিলেন বলে জানান সেনা দাস।
অভিযানের দিনের ঘটনা বর্ণনা করে সেনা দাস বলেন, ওইদিন মুগ্ধ বাড়িতেই ছিল। পুলিশ এসে দরজায় কড়া নাড়লে আমি গেট খুলতে যাই। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পেছন দিয়ে পালিয়ে যায়।
এদিকে সেই রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে সিদ্ধার্থ দাসের বাবা বিনয় দাস বলেন, সিদ্ধার্থ মাঝেমধ্যেই প্রতিবেশী বন্ধু বা আত্মীয়ের বাড়িতে রাতযাপন করত। বৃহস্পতিবার রাতে সে বাড়িতে না থাকায় ভেবেছিলাম হয়তো সেখানেই ঘুমাচ্ছে। শনিবার রাতে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ যখন সিদ্ধার্থকে খুঁজতে আসে, তখন আমি নিজে গিয়ে প্রতিবেশী এক কাকার বাড়ি থেকে তাকে ডেকে আনি। এরপর পুলিশ তাকে আটক করে।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী জানান, সিদ্ধার্থের শরীরে বেশকিছু আঁচড়ের চিহ্ন ছিল। ঘটনার পর তিনি একটি ক্লিনিকে গিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসাও নেন। স্থানীয়দের দেওয়া এমন তথ্যের ভিত্তিতে প্রথমে সিদ্ধার্থকে আটক করা হয়। এরপর অদূরে মুগ্ধর বাড়িতে অভিযান চালালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সে পালিয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধাওয়া করে তুতফার্ম এলাকা থেকে মুগ্ধকে আটক করে পুলিশ। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উভয়ই হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।



