‘মাছ-মাংস দূরের কথা, সবজিতেই এখন বেশি টাকা লাগে’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির ঢেউ এসে আছড়ে পড়েছে দেশের সবজির বাজারে। জ্বালানি তেলের সংকটের অজুহাতে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে জামালপুরে বিভিন্ন সবজির দাম বেড়েছে কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাজারে এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।
রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে জামালপুর শহরের গেইটপাড় বাজার, বেলটিয়া বাজার ও সকাল বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষের দৈনন্দিন খরচ বেড়ে গেছে।
বাজার পরিদর্শনে গিয়ে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগেও যে বেগুন ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, সেটি এখন ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। করলা ৫০ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, পটল ৭০ থেকে ১০০ টাকা, শসা ২০ থেকে বেড়ে ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিষ্টিকুমড়া, জালিকুমড়াসহ সবজির দামও ঊর্ধ্বমুখী। কুমড়া ৮০ টাকা এবং শজনা ১০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। তবে আলু ও পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। পেঁয়াজ ৩৫-৪০ এবং আলু ১৮-২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়া এবং জ্বালানি তেল না পাওয়ায় অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়ের এই দুই কারণে বাজারে পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে বিভিন্ন সবজির দাম কিছুটা বেড়েছে।
সবজি বিক্রেতা সুজন বলেন, ‘আমরা আড়ত থেকে সব কিছু কিনে আনি, সেখানে পর্যাপ্ত পাওয়া যাচ্ছে না। যতটুকু পেয়েছি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আবার সেখান থেকে বেশি ভাড়া দিয়ে আমাদের এই বাজার পর্যন্ত আনতে হচ্ছে। সব জায়গায় বেশি খরচ করতে হচ্ছে। এখন দাম তো তাহলে একটু বাড়বেই।’
শহরে সকাল বাজারে আসা সরকারি কর্মকর্তা মো. রিপন বলেন, ‘কয়েক দিন আগে বাজারে এসে যে দামে সবজি কিনেছিলাম, আজ এসে দেখি অনেকটাই বেড়ে গেছে। এখন বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। কী করব, কিনতে তো হবে আমাদের।’
অন্যদিকে আজিজুল হক নামের এক ক্রেতা বলেন, ‘বাজারে এলেই খরচের হিসাব মেলানো যাচ্ছে না। মাছ-মাংস তো দূরের কথা, সবজিতেই এখন বেশি টাকা লাগে। হঠাৎ করেই সবজির এত দাম।’
বাজারে আসা ক্রেতারা বলছেন, প্রতিদিনই নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু আয় বাড়ছে না সমান হারে। এতে সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ক্রেতাদের অভিযোগ, জ্বালানি সংকটের অজুহাতে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী ইচ্ছামতো দাম বাড়াচ্ছেন। বাজারে নিয়মিত তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সবজি বিক্রেতা জানান, আগের তুলনায় সবজির দাম কিছুটা বেশি। নতুন সবজি বাজারে আসতে শুরু করলে আবার কমতে পারে। তেলের জন্য গাড়ি ঠিকমতো পাওয়া যায় না। কৃষক ফসল বাজারে আনতে পারছে না, কম থাকার জন্য দাম একটু বেড়ে গেছে।
অন্যদিকে মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বগতি। সবজির পাশাপাশি মাছের দামও বেড়েছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে বাজারে বড় রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা, কাতলা ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২২০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১২০০ থেকে ২৫০০ টাকা পর্যন্ত। তবে সবকিছুর দাম বাড়লেও মুরগির দাম বাড়েনি, আগের দামেই বয়লার ১৮০ ও কক ৩৫০ টাকা ধরে বিক্রি হচ্ছে।
এ বিষয়ে জানতে জামালপুর ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. শরীফুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।