আমি কোনো দলের নয়, জনগণের এমপি হব : রুমিন ফারহানা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেছেন, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে আমি কোনো দলের বা কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর এমপি হব না। তিনি বলেন, সব দল-মতের মানুষ ও সব ধর্মের মানুষ তার কাছে সমান এবং নিরাপদ থাকবে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সরাইল উপজেলার উচালিয়াপাড়া এলাকায় পথসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
রুমিন ফারহানা বলেন, আইন অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের যে প্রাপ্য সুবিধা রয়েছে এবং সরকারি বরাদ্দ—তা তিনি সমানভাবে বণ্টন করবেন। তিনি বলেন, এমপি নির্বাচিত হলে তার কোনো ‘খাওয়া পার্টি’ থাকবে না। বরাদ্দের ৫০ শতাংশ এমপি আর ২৫ শতাংশ ‘খাওয়া পার্টি’র পকেটে যাওয়ার যে সংস্কৃতি দেশে চালু আছে, তার ক্ষেত্রে এসব চলবে না।
নিজের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে তিনি বলেন, তার চিকিৎসা বিদেশে নয়, এলাকার সরকারি হাসপাতালেই হবে। আমি যদি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করি, তাহলে আপনারা দেখবেন—ডাক্তারও থাকবে, যন্ত্রপাতিও কাজ করবে। সারাজীবন ধরে মানুষ দেখে আসছে মন্ত্রী ও এমপিদের চিকিৎসা হয় সিঙ্গাপুর ও ব্যাংককে। কিন্তু তিনি এমপি হলে সরাইল ও আশুগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই চিকিৎসা নেবেন বলে জানান।
রাজনৈতিক অধিকার প্রসঙ্গে রুমিন ফারহানা বলেন, বাংলাদেশে যে কোনো দলের রাজনীতি করা নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। সুতরাং কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে কাউকে জুলুম বা নির্যাতনের শিকার হতে দেওয়া হবে না। কারও নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বাস দেন।
তিনি আরও বলেন, যদি কোনো ব্যক্তি বিনা অপরাধে কারাগারে থাকেন এবং তার পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করে, তাহলে সেই ব্যক্তির জামিনের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব তিনি নেবেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন রুমিন ফারহানা। জোটের স্বার্থে আসনটি ছেড়ে দিলে এখন এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী হয়েছেন জমিয়তে ওলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহসভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব। রুমিন ফারহানা স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় দল গত ৩০ ডিসেম্বর বহিষ্কার করে। আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর আগে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে এক কর্মীকে জরিমানার ঘটনায় রুমিন ফারহানার সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেটের বাগবিতণ্ডা হয়, যা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।