বিশ্ব পরিবেশ দিবসে শ্যামনগরে বৃক্ষ পদযাত্রা

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বৃক্ষ পদযাত্রা, গাছ দত্তক গ্রহণ এবং পরিবেশ রক্ষার শপথ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বাড়াতে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (৫ জুন) সকালে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিকের সহযোগিতায় উপজেলার বিভিন্ন জনসংগঠন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবী অ্যাসোসিয়েশন ও গ্রিন কোয়ালিশনের উদ্যোগে কর্মসূচিটি অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় ঈশ্বরীপুর এ. সোবহান মাধ্যমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বারসিকের আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. শাহীন ইসলাম।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলগুলোর মধ্যে উপকূলীয় এলাকা অন্যতম। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে বৃক্ষরোপণকে সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করতে হবে।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য বৃক্ষ পদযাত্রা বের হয়ে যশোরেশ্বরী মন্দির অভিমুখে অগ্রসর হয়। পদযাত্রায় শতাধিক মানুষ অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের হাতে লবণসহিষ্ণু কদবেল, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা ছিল। পরিবেশ সুরক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার আহ্বানসংবলিত বিভিন্ন ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়।
পদযাত্রা শেষে অংশগ্রহণকারীরা প্রত্যেকে একটি করে গাছ দত্তক নেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার শপথ গ্রহণ করেন। শপথ পাঠ করান আটুলিয়া ইউনিয়নের ‘সবুজ যোদ্ধা’ রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল।
আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন শ্যামনগর পৌরসভা গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি কৃষ্ণানন্দ মুখার্জি, ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন গ্রিন কোয়ালিশনের সভাপতি জিল্লুর রহমান, যুব সংগঠক গাজী আব্দুর রউফ, সাইফুদ্দিন সিদ্দিক, এএলসি তত্ত্বাবধায়ক কনিকা রানী, বটবৃক্ষপ্রেমী তেজেন্দ্রনাথ মৃধা এবং বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঈশ্বরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এস এম শফিউল্লাহ। সমাপনী বক্তব্যে তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করতে হবে। একটি সবুজ, নিরাপদ ও বাসযোগ্য ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
আয়োজকরা জানান, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
