‘খাই খাই বন্ধ করুন’, এমপির পোস্ট ঘিরে তোলপাড়

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামালের দেওয়া একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যেখানে তিনি নেতাকর্মীদের ‘খাই খাই’ বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়ে উল্লেখ করেন ‘ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন’। পোস্টটি ছড়িয়ে পড়ার পর তার বিরুদ্ধেও পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। পাল্টাপাল্টি মন্তব্যের ঘটনায় ঝালকাঠিতে বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে নানা আলোচনা চলছে।
রফিকুল ইসলাম জামালের পোস্টের মন্তব্যের ঘরে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দিয়েছেন। অনেকে এমপির বার্তাকে সাধুবাদ জানালেও কেউ কেউ তার চারপাশের নেতাকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
কিরন নামে একজন এমপির পোস্টে মন্তব্য করে লেখেন, এমপি সাহেব, আপনি তো সেই খাই খাই নেতাকর্মীদের নিয়ে চলাফেরা করেন। আপনি রাজাপুরে আসলে আপনাকে রিসিভ করতে যায়, আপনার বাড়ি পর্যন্ত চলে যায়, আপনার সঙ্গে ক্যামেরায় ছবি তুলে তেল মেরে আপনার নাম বিক্রি করে চাঁদাবাজি করে।
তিনি আরও লেখেন, এইসব মীরজাফর আপনার পাশে থাকলে উন্নত হবে? আড়ালে খোঁজ নিয়ে দেখুন, বাস্তবতা জানতে পারবেন আশা করি।

এস এম নাজমুন মিরাজ নামে একজন মন্তব্য করেন, ভাইয়া, দুইদিন পরে দলে কর্মী খুঁজে পাবেন না। কারণ যে কয়টা নেতা বানাইছেন, সবগুলো কর্মীদের সঙ্গে বেঈমানি করে আওয়ামী লীগরে পুনর্বাসন করছে ঝালকাঠিতে, স্বার্থের অঢেল সম্পত্তির মালিক হয়েছে।
কী লিখেছেন এমপি
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে রফিকুল ইসলাম জামাল পোস্টটি দিয়েছেন বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে।
পোস্টে তিনি লেখেন, ঝালকাঠির বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের খাই খাই বন্ধ করার জন্য অনুরোধ করছি। ছয় মাসে অনেক খেয়েছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাহারার বিনিময় খেয়েছেন, আওয়ামী লীগের পক্ষে ওকালতি করে খেয়েছেন, আওয়ামী লীগের বাড়িঘর পাহারা দিয়ে খেয়েছেন, ঠিকাদারি পাহারা দিয়ে খেয়েছেন। শেষ পর্যন্ত টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের দলে যোগদান করিয়েও খাচ্ছেন।
তিনি আরও লেখেন, মনে হচ্ছে আপনারা দলটাকেই খেয়ে ফেলবেন। লজ্জা থাকা উচিত। যাদের রক্তের বিনিময়ে আপনাদের এত খাওয়ার সুযোগ হয়েছে, সেই ‘৩৬ জুলাইয়ের শহীদদের’ জন্য ৫ আগস্ট একটু দোয়া-মোনাজাতও করতে পারেননি। শুধু নেতা হতে পদের আকাঙ্ক্ষায় থাকলে দ্রুতই দল থেকে ঝরে পড়বেন।
তার পোস্টে দেওয়া বার্তাকে সাধুবাদ জানিয়ে আনোয়ার হোসেন মৃধা মন্তব্যের ঘরে লেখেন, এমপি সাহেব আপনাকে ধন্যবাদ। সত্য কথা বলতে গেলে আপনি ভুল বুঝলে কী করার। তারপরও আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে একটা কথা বলি—আপনার চারপাশের দোসরমুক্ত করেন। তাহলে কারো বাপের শক্তি নেই রাজাপুরের বুকে কারও কিছু করার।
রুমি আকন নামে একজন মন্তব্য করেন, জেলা থেকে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যন্ত খাই খাই পার্টিরা এগিয়ে আছেন। পাটিখালঘাটা ইউনিয়নে আপনি ১২টি প্রজেক্টসহ মসজিদের অনেক কাজ দিয়েছেন। কিন্তু তিতা হলে সত্যি যে, যাদেরকে আমরা মিটিং-মিছিলে পাশে পাইনি, উল্টো দলের এবং সরাসরি এমপি মহোদয়ের দুর্নাম বলত, তাদের নামও কয়েকটি প্রজেক্টে আসছে।
রুমি আকন আরও লেখেন, বিএনপি তথা জামাল ভাইয়ের লোকজনের নাম থাকলে তো আর কথিত নেতারা পার্সেন্টিস খেতে পারে না। এই জন্য যারা মিটিং-মিছিলে সময়, শ্রম ও অর্থ দেয়, তারা কোনো কাজ বা সহযোগিতা পায় না।
এমপিকে নিয়ে সমালোচনা
রফিকুল ইসলাম জামালের ওই পোস্টের পর তার রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে অনেকে সমালোচনা শুরু করেন।
ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিবাদের দোসরদেরকে বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা নিয়ে অনুপ্রবেশের মাধ্যমে নিজের গ্রুপকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করেন রফিকুল ইসলাম জামাল।
তিনি আরও লেখেন, আজ সোশ্যাল মিডিয়াতে শাহজাহান ওমর বীর উত্তমের পার্টনার, ফ্যাসিবাদের দোসরদের পুনর্বাসনকারী রফিকুল ইসলাম জামালের একটি নীতিবাক্য দেখতে পেলাম, যাহা আমাকে একটি প্রবাদ বাক্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়—ভূতের মুখে রাম রাম।
সমালোচনা নিয়ে এমপির জবাব
রফিকুল ইসলাম জামালকে নিয়ে সমালোচনা ও অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি এশিয়া পোস্ট। তবে এসব বিষয়ে শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে এশিয়া পোস্টের সঙ্গে কথা হয়েছে এই সংসদ সদস্যের।
তিনি বলেন, এই বার্তা তো আমি আমার কর্মীদেরকে দিয়েছি। আওয়ামী লীগের কর্মীদেরকে দিইনি। আমার অন্যায় আমার কর্মীরা বলবে। বাইরের কে কি বলল এটা বিষয় নয়। আমার কোনো নেতাকর্মী বলতে পারবে না আমি টাকার বিনিময়ে বা স্বার্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের কাউকে পুনর্বাসন করেছি বা তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে কোনো কাজ করেছি।
রফিকুল ইসলাম জামাল আরও বলেন, বিএনপিকে তারাই নেতৃত্ব দেবে যারা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ধারণ করতে পারেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজের স্বার্থের জন্য বাংলাদেশে দুটো বাড়ি করে যাননি। এমনকি বেগম খালেদা জিয়া দুটো বাড়ি করে যাননি। নিজের স্বার্থের জন্য কিছুই করে যাননি।
তিনি বলেন, আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্যাতিত হয়ে বিদেশের মাটিতে দীর্ঘদিন ছিলেন। সেখান থেকে দেশে এসে দেশের মাটি হাতে নিয়ে বলেছেন তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি করতে চান না। তারচেয়ে বেশি নির্যাতিত আমরা কেউই হইনি। আমি নিঃস্বার্থভাবে দল করতেছি। আমি দল থেকে কোনো ধরনের সুবিধা নিচ্ছি না। এই সৎ সাহস আছে বলেই আমি এরকম একটা বার্তা দিতে পেরেছি।
.png)
