logo

শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা স্বজনদের

শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা স্বজনদের

বাগেরহাটের রামপালে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা ধীরে ধীরে শোক কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। মোংলা উপজেলার শেহালাবুনিয়া গ্রামে নিহতদের বাড়িতে আসা স্বজনরা রোববার (১৫ মার্চ) বিকেল থেকে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন। স্বজনদের প্রত্যাশা, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারটি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

রোববার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিহত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে আশরাফুল ইসলাম জনি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বারবার কবরস্থানে যেতে দেখা গেছে। প্রিয়জনদের হারানোর শোক এখনও তাদের চোখেমুখে স্পষ্ট।

আশরাফুল ইসলাম জনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে অসংখ্য মানুষ ও আত্মীয়স্বজন বাড়িতে ছুটে এসেছিলেন। এখন ধীরে ধীরে তারা নিজ বাড়িতে ফিরে যাচ্ছেন। স্বজনরা পাশে থাকায় মা কিছুটা শান্ত ছিলেন। আমরা তো সব হারিয়ে ফেলেছি। এখন আল্লাহর ওপর ভরসা করে বেঁচে আছি।

সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে রামপাল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। নিহত আব্দুর রাজ্জাকের বড় ছেলে আশরাফুল ইসলাম জনি বাদী হয়ে এ মামলা করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানোর কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিচার দাবি করেন তিনি।

রামপাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় দুর্ঘটনার বিষয়ে একটি মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ বলেন, নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে রামপাল থানায় একটি মামলা করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন কমিটির প্রধান ও বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মেজবাহ উদ্দিন। তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সেগুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে।

মেজবাহ উদ্দিন বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য কমিটিকে ১০ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছিল। তবে সড়কটিতে বারবার দুর্ঘটনা ঘটার কারণ নির্ণয়ে বিশেষজ্ঞ মতামতের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের কাছে বিশেষজ্ঞ সহায়তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞ পাওয়া গেলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে খুলনা-মোংলা মহাসড়কের বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি স্টাফ বাস ও যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে বর-কনেসহ মোট ১৪ জন নিহত হন। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেদিন রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরদিন শুক্রবার জুমার নামাজের পর জানাজা শেষে বর, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাকসহ ৯ জনকে মোংলা কবরস্থানে দাফন করা হয়। নববধূ, তার বোন ও দাদিকে দাফন করা হয় কয়রার নকশা এলাকায় এবং নানিকে দাফন করা হয় চালনা এলাকায়। এ ছাড়া মাইক্রোবাস চালককে তার নিজ গ্রাম রামপালে দাফন করা হয়।