logo

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ৯ বছরের শিশুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে ৯ বছরের শিশুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ

বরিশালের বাবুগঞ্জে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে রাইসা ইসলাম নামে এক শিশুকে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক কিশোরের বিরুদ্ধে। রোববার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে রোববার দুপুরে উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের দক্ষিণ রাকুদিয়া গ্রামে এ আগুনের ঘটনা ঘটে।

নিহত ৯ বছরের শিশু রাইসা ইসলাম বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাঠমিস্ত্রি নজরুল ইসলামের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

স্থানীয়রা জানান, রাইসার মা অন্যত্র বিয়ে করেছেন। বড় ভাই ঢাকায় ফলের দোকানে কাজ করেন, আর বাবা কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। ঘটনার সময় রাইসার বাবাও ঘরে ছিলেন না।

প্রতিবেশী তসলিম বলেন, রোববার দুপুরে সন্ধ্যায় নদীর তীরে ভিটায় কাজ করছিলাম। প্রতিবেশীদের ডাকাডাকি এবং রাইসার চিৎকার শুনে নজরুলের ঘরের সামনে ছুটে যাই। দেখতে পাই- রাইসার পুরো শরীরে আগুন জ্বলছে। দ্রুত এক বালতি পানি মেরে আগুন নেভানোর চেষ্টা করি। পরে রাইসাকে কোলে নিয়ে পাশের নদীতে ঝাঁপ দিয়ে আগুন নেভাই।

তসলিম বলেন, উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় স্থানীয় একজনকে দেখে রাইসা কাঁদতে শুরু করে এবং বলতে থাকে, ওই ব্যক্তির ১৫ বছর বয়সি ছেলে তাকে পুড়িয়ে দিয়েছে। আর ঘটনার পর ওই কিশোরকে ঘটনাস্থলের আশপাশে দেখা যায়নি। তবে কেউ ওর গায়ে আগুন দিয়েছে, নাকি আগুন লেগেছে, অথবা নিজেই আগুন দিয়েছে কি না, তা জানা নেই।

তিনি বলেন, রাইসা শুধু বলেছে—ওই কিশোর তার সঙ্গে খারাপ কাজ করতে চাইছে। সে রাজি না হওয়ায় তাকে পুড়িয়ে দিয়েছে। তবে কীভাবে আগুন দিয়েছে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে পারেনি রাইসা। শুধু বলছে, ওই কিশোর তাকে পুড়িয়ে দিয়েছে।

তসলিম জানান, ঘটনার পর রাইসাকে পার্শ্ববর্তী উজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। অবস্থা খারাপ হওয়ায় সেখানেও তাকে না রেখে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

ঢাকায় হাসপাতালে পৌঁছাতে রাত হয়ে যায় জানিয়ে তিনি বলেন, ভর্তি করে অপারেশন থিয়েটার পর্যন্ত যেতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। ভর্তির পর চিকিৎসকরা জানান, রাইসার শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গেছে, অবস্থা ভালো না। এরপর অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং কিছুক্ষণ পরই চিকিৎসকরা জানান, রাইসা মারা গেছে। তখন রাত সাড়ে ১০টার মতো। বর্তমানে রাইসার মরদেহ মর্গে রয়েছে।

রাইসার বাবা নজরুল হাওলাদার বলেন, অভিযুক্ত কিশোর প্রায়ই রাইসাকে উত্ত্যক্ত করত। তার কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় রাইসার শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলা করবেন।

তবে অভিযুক্ত কিশোরের বাবার দাবি, ঘটনার সময় ওই কিশোর নদীর তীরে গোসল করতে গিয়েছিল। সে এ ঘটনায় জড়িত না।

এ বিষয়ে বাবুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. এহতেশামুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ঘটনার প্রকৃত কারণ জানার চেষ্টা করছেন। শিশুর লাশ নিয়ে সোমবার রাতে ফেরার কথা রয়েছে। পরিবার কোনো অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।