logo

ঘর সাজাতে কম দামে বেতের জিনিস, ৪০ বছর ধরে বানাচ্ছেন বেল্লাল

ঘর সাজাতে কম দামে বেতের জিনিস, ৪০ বছর ধরে বানাচ্ছেন বেল্লাল

বেডরুম সেট, সোফা, ডাইনিং টেবিল, আলমারি বা ওয়ারড্রোব–ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে ভাবলে বর্তমান সময়ে শুরুতে মাথায় আসে কোন কাঠ ভালো হবে। অথবা প্লাস্টিকের পণ্য হলে কোন ব্র্যান্ড টেকসই। কিন্তু বেত দিয়ে তৈরি আসবাবপত্র নিয়ে কি কেউ ভাবে–মান কেমন, দাম কম নাকি বেশি, টিকবে কত দিন?

বেতশিল্পের কারিগর বেল্লাল ব্যাপারী জানালেন, বেত দিয়ে বানানো পণ্য দীর্ঘ দিনেও নষ্ট হয় না। কারণ, কাঠের মতো এতে ঘুনে ধরার শঙ্কা থাকে না। বেতের দাম আগের চেয়ে বাড়লেও পণ্যের দাম খুব বেশি বাড়েনি। কাঠ বা প্লাস্টিকের চেয়ে এখনো বেতের পণ্য অনেক সহজলোভ্য।

বেল্লাল ব্যাপারী মাদারীপুর পৌর শহরের পাবলিক লাইব্রেরির পাশে ‘সুইট হোম’ নামের বেতের দোকানের কারিগর। তিনি ৪০ বছর ধরে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত। বেতের পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় তার মতো অনেক কারিগর পেশা পরিবর্তন করেছেন।

তিনি জানান, কাঁচামালের অভাব, উচ্চমূল্য এবং পণ্যের যথাযথ দাম না পাওয়ায় বেত শিল্পে চরম সংকট সৃষ্টি হয়েছে। এক সময় এই জেলার বেতের তৈরি পণ্য দেশ-বিদেশে বিপুল চাহিদা অর্জন করেছিল। ঘর সাজানোর আসবাব থেকে শুরু করে দৈনন্দিন ব্যবহার্য নানা জিনিসে বেতের শিল্প ছিল সৌন্দর্য ও শৈল্পিকতার প্রতীক। কিন্তু এখন সেই ঐতিহ্য বিলুপ্তির পথে।

রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি থেকে বেত এনে মাদারীপুরে তৈরি হতো ম্যাগাজিন র‍্যাক, টেলিফোন চেয়ার, সোফা সেট, টেবিল, ট্রলি, বেবি কট, ফোল্ডিং চেয়ার ও ডাইনিং চেয়ারসহ নানা পণ্য।

বেল্লাল ব্যাপারী বলেন, সরকারের সহায়তা ছাড়া এই শিল্প টিকবে না। সরকার চাইলে এই হারানো ঐতিহ্য আবার জাগিয়ে তুলতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্রেতারা মনে করেন, সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়া গেলে এখনো বেত শিল্পকে বাঁচানো সম্ভব। এই প্রাচীন শিল্পের শৈল্পিক ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ যেন নতুন প্রজন্মের কাছে সংরক্ষিত থাকে।

bigStoryContent

স্থানীয় ব্যবসায়ী রিপন মিয়া বলেন, আগে প্রতিদিন দোকানে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকত। এখন সেই দিন নেই। প্লাস্টিকের পণ্যে মানুষ ঝুঁকছে, তাই আমরাও ভাবছি এই পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যাব।

কালকিনির কারিগর সহিদুর রহমান বলেন, দূর-দূরান্ত থেকে বেত কিনে আনতে হয়। খরচ অনেক, কিন্তু বিক্রি নেই। আগে মাসে যে আয় হতো, এখন তার অর্ধেকও হয় না।

তবে আশার কথা শোনালেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াদিয় শাবাব। তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়া হবে। কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেওয়া হবে, যাতে তারা বেত শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য আয়ের পথেও এগোতে পারেন।