১৭ দিন পর সোনামসজিদ বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি শুরু হচ্ছে আজ

দীর্ঘ ১৭ দিন পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে পুনরায় পাথর আমদানি শুরু হতে যাচ্ছে আজ। উভয় দেশের দফায় দফায় বৈঠক শেষে টনপ্রতি শুল্কায়ন মূল্য বা অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ১৪ মার্কিন ডলারে নির্ধারণের পর এই দীর্ঘ অচলাবস্থার অবসান ঘটতে যাচ্ছে।
সোমবার (১৮ মে) বিকেলে বাংলাদেশ-ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের মধ্যে ঘণ্টাব্যাপী এক অনলাইন জুম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যায় বৈঠক শেষে উভয় দেশের আমদানিকারকরা মঙ্গলবার সকাল থেকে পাথর আমদানি পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একমত হন।
সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি ও রপ্তানিকারক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আরিফ উদ্দিন দইতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (১৭ মে) সোনামসজিদ স্থলবন্দর আমদানি-রপ্তানিকারক গ্রুপ অ্যাসোসিয়েশনের মিলনায়তনে ভারতের মহদিপুর এক্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে একটি যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক প্রসেনজিৎ ঘোষ। সেই সভার ধারাবাহিকতায় সোমবার বিকেলে পুনরায় অনলাইন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর পূর্বনির্ধারিত টনপ্রতি ১৩ ডলারের সঙ্গে আরও ১ ডলার বাড়িয়ে ১৪ ডলারে পাথর রপ্তানি করতে সম্মত হয় ভারতীয় রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশন।
এর আগে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রতি টন পাথরের মূল্য ১৫ ডলারের নিচে রপ্তানি করতে রাজি ছিল না এবং অন্যদিকে বাংলাদেশের আমদানিকারকরা ১৩ ডলারের উপরে কিনতে অনীহা প্রকাশ করায় আলোচনা ভেস্তে যায় এবং এই বন্দর দিয়ে পাথর আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে দুপক্ষের সমঝোতায় ১৪ ডলারে বিষয়টি রফা হয়।
এদিকে দীর্ঘদিন পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বন্দর শ্রমিক ও পরিবহন খাতসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার মানুষ চরম আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। কাজ না থাকায় বিপাকে পড়া বন্দর শ্রমিকদের মাঝেও এই সিদ্ধান্তের পর স্বস্তি ও উদ্দীপনা ফিরে এসেছে। ব্যবসায়ী নেতারা আশা প্রকাশ করছেন, নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে বন্দরের কার্যক্রমে স্থবিরতা কেটে আবারও গতি ফিরবে। একইসঙ্গে আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা দ্রুত সময়ের মধ্যে পাথরবাহী ট্রাকের প্রবেশ ও খালাস কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট বন্দর কর্তৃপক্ষের জরুরি সহযোগিতা কামনা করেছেন।