Advertisement

পাটের বীজ উৎপাদন বাড়ছে কুড়িগ্রামে, কম খরচে বেশি আয়

এশিয়া পোস্ট নিউজ, কুড়িগ্রাম
পাটের বীজ উৎপাদন বাড়ছে কুড়িগ্রামে, কম খরচে বেশি আয়
গাছ মাড়াই করে আলাদা করা হচ্ছে পাটের বীজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

কুড়িগ্রামে দিন দিন বাড়ছে দেশীয় পাটের বীজ উৎপাদন। অন্যান্য ফসলের তুলনায় উৎপাদন খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় এ চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত বীজ বাণিজ্যিকভাবে বিক্রি করতে চান তারা।

Advertisement

সরেজমিনে দেখা গেছে, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বিভিন্ন মাঠ থেকে সংগ্রহ করা দেশীয় পাটের গাছ বীজসহ রোদে শুকাচ্ছেন কৃষকরা। কেউ আবার গাছ মাড়াই করে আলাদা করছেন বীজ। ভালোভাবে শুকানোর পর বীজ পরিষ্কার, সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাত করে বাজারজাত করবেন তারা।

কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল কাদের দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য ফসলের পাশাপাশি দেশীয় পাটের বীজ উৎপাদন করছেন। নিজের জমিতে বীজ উৎপাদন করে ভালো লাভ পাওয়ায় প্রতিবছরই আবাদ বাড়াচ্ছেন তিনি।

আব্দুল কাদের বলেন, পাটের বীজ উৎপাদনে খরচ তুলনামূলক কম। নিজের জমিতে উৎপাদন করায় বাইরে থেকে বীজ কিনতে হয় না। চাহিদা মিটিয়ে বাড়তির বীজ বিক্রি করে ভালো আয় করা যায়। তাই প্রতিবছরই আবাদ বাড়াচ্ছি। দেখা যাচ্ছে ১০ হাজার টাকা খরচ করলে ৩০ হাজার টাকার বীজ বিক্রি করা সম্ভব।

ছবি: এশিয়া পোস্ট
ছবি: এশিয়া পোস্ট

আব্দুল কাদেরকে দেখে আশপাশের অনেক কৃষকও দেশীয় পাটের বীজ উৎপাদন করছেন। তারা জানান, বীজ উৎপাদনের জন্য বড় ধরনের প্রক্রিয়াজাতকরণ খরচ নেই। মাঠ থেকে সংগ্রহের পর ভালোভাবে শুকিয়ে পরিষ্কার ও সঠিকভাবে সংরক্ষণ করলেই তা বিক্রির উপযোগী হয়।

ওই এলাকার কৃষক কৃষ্ণ কুমার বলেন, ধান বা অন্য ফসলের মতো পাটের বীজ উৎপাদনে বেশি খরচ হয় না। সময়মতো বীজ সংগ্রহ করে ভালোভাবে শুকাতে পারলে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও কম। বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে লাভও ভালো হয়।

আরেক কৃষক গোলজার বলেন, নিজেদের জমির জন্য বীজ রেখে বাকি বীজ বিক্রি করি। এতে একদিকে পরের মৌসুমের বীজের চিন্তা থাকে না, অন্যদিকে বাড়তি টাকা আয় করা যায়।

তবে ভালো মানের বীজ উৎপাদনের জন্য জমি নির্বাচন, সময়মতো বপন, সঠিক পরিচর্যা এবং নির্ধারিত সময়ে বীজ সংগ্রহের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

কুড়িগ্রাম কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কুড়িগ্রাম জেলায় ১৬ হাজার ৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫০ হেক্টর জমিতে দেশীয় পাট চাষ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে বীজ উৎপাদন হবে।

সদরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, দেশীয় পাটের বীজ উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। মানসম্মত বীজ উৎপাদনের জন্য কৃষকদের জমি নির্বাচন থেকে শুরু করে বীজ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিষয় :