জমি নিয়ে বিরোধ, জোরপূর্বক সাংবাদিকের পরিবারের গাছ কাটার অভিযোগ
-2bcadb-720x405.webp)
রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে সাংবাদিক ইজাজ সৌমিকের পরিবারের পৈতৃক জমিতে জোরপূর্বক গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা সুজন মৃধা ও তার ভাইদের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ কাটার কাজ বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এ ঘটনায় জমির মালিকানা নিয়ে দুপক্ষের বিরোধ নতুন করে সামনে এসেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার যশাই ইউনিয়নের ভেল্লাবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ইজাজ সৌমিক চ্যানেল ২৪-এর সিনিয়র রিপোর্টার।
অভিযোগের বিষয়ে জানা গেছে, ভেল্লাবাড়িয়া গ্রামের মৃত বাদশাহ মিঞার সন্তানদের সঙ্গে সুজন মৃধা ও তার ভাইদের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। সম্প্রতি ওই জমির গাছ কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার সকালে লোকজন নিয়ে জমিতে থাকা গাছ কাটতে যান সুজন মৃধাসহ কয়েকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কাটার কাজ বন্ধ করে দেয়।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন সুজন মৃধা, তুর্কি মৃধা, টিপু মৃধা, পলাশ মৃধা ও মিঠু। সুজন, তুর্কি, টিপু ও পলাশ মৃত হামিদুর রহমান মজনু মৃধার ছেলে।
সাংবাদিকের বড় ভাই মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে ঢাকায় থাকায় বাড়িতে কেউ বসবাস করেন না। সেখানে একজন কেয়ারটেকার রয়েছেন। এই সুযোগে প্রতিপক্ষের লোকজন জমিতে থাকা গাছ কাটতে যান। তার দাবি, ইতোমধ্যে অন্তত ১০টি গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ২০ শতাংশ জমি দখল করে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, নিজের হাতে জমিতে গাছগুলো লাগিয়েছি। কয়েক দিন আগে গাছ কাটার হুমকি দেওয়া হয়েছিল, যার অডিও রেকর্ড রয়েছে। মঙ্গলবার সকালে লোকজন নিয়ে এসে গাছ কাটা শুরু করেন তারা। পরে বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় সংসদ সদস্যের নির্দেশনায় ওসি পুলিশ পাঠিয়ে গাছ কাটা বন্ধ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জমি দখলকে কেন্দ্র করে তার বড় ভাই মফিজুর রহমানের ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। ওই ঘটনায় তিনি আহত হন বলেও দাবি করেন মিজানুর রহমান। তার ভাষ্য, এর আগে থানা থেকে মৌখিকভাবে বলা হয়েছিল, বাড়ির জমি ভাগ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই গাছ কাটতে পারবে না এবং সবাইকে নিজ নিজ অবস্থানে থাকতে হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফজলু শেখ বলেন, আমরা অনেক আগে থেকেই দেখে আসছি, এই জমি মৃত বাদশাহ মিঞার সন্তানরা ভোগদখল করে আসছেন। তবে এখন সুজন মৃধা জোরপূর্বক গাছ কেটে নিচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শিলা আক্তারও জমিটি বাদশাহ মিঞার সন্তানদের বলে দাবি করে বলেন, তারা কর্মসূত্রে ঢাকায় থাকেন। এই সুযোগে জমির গাছ কেটে নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া অতীতে সুজন মৃধার বিরুদ্ধে তাকে ও তার স্বামীকে মারধর এবং মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগও করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সুজন মৃধা প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্নভাবে মানুষকে হয়রানি করেছেন। তাদের দাবি, জমি দখল ও মামলা দিয়ে হয়রানির মতো কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আগে থেকেই রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
অভিযোগ অস্বীকার না করে সুজন মৃধা বলেন, জমি আমাদের দুজনেরই। তবে আমার অংশ বেশি। গাছগুলো আমার অংশে রয়েছে, তাই আমি গাছ কাটতে গিয়েছিলাম। কিন্তু থানা-পুলিশ ও স্থানীয় একজন নেতা বলেছেন, গাছ কাটা যাবে না। আগে বসে আলোচনা বা সালিশের মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তাই আমি গাছ কাটা বন্ধ করে দিয়েছি।
তবে গাছ কাটার বিষয়ে আগে নিষেধাজ্ঞা থাকার কথা উল্লেখ করে তা সত্ত্বেও কেন গাছ কাটতে গিয়েছিলেন—এ প্রশ্নের স্পষ্ট জবাব দেননি তিনি।
এ বিষয়ে পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, গাছ কাটার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে একটি মেহগনি গাছের ডাল কাটা অবস্থায় দেখা যায়। পরে গাছ কাটার কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় দুই পক্ষকেই থানায় ডাকা হয়েছে। আলোচনার মাধ্যমে জমি নিয়ে বিরোধের সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
