প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনায় উৎসবের আমেজ, উন্নয়নের আশায় উপকূলবাসী

নদীভাঙন, সুপেয় পানির সংকট, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাসহ দীর্ঘদিনের সমস্যা থেকে মুক্তির আশায় বুক বেঁধেছে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ানের উপকূলীয় মানুষ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই জনপদ সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মাঝে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। তাকে একনজর দেখার আকুলতার পাশাপাশি টেকসই উন্নয়ন ও জীবনমান পরিবর্তনের প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর দাকোপ ও বাগেরহাটের মোংলা সফর ঘিরে নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠ ও আশপাশের এলাকায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন পুলিশ, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট (পিজিআর), নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রধানমন্ত্রীর অবতরণের সম্ভাব্য স্থান নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ডগ স্কোয়াড দিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়েছে।
সফর উপলক্ষে নলিয়ান বাজারের পশ্চিম প্রান্তের পাকা সড়ক থেকে পূর্ব দিকে কোস্টগার্ড কার্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কে ইট বিছিয়েছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। এছাড়া নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে প্রস্তুত করা হয়েছে হেলিপ্যাড।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ সকালে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকা পরিদর্শনের পর নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখান থেকে নৌপথে মোংলার নৌঘাঁটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে তার। পরে সভায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি মোংলা বন্দরের জেটি ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে।
এদিকে সুন্দরবন এলাকায় সম্ভাব্য ভাসমান তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল স্থাপনের স্থান পরিদর্শন নিয়েও আলোচনা রয়েছে। মোংলা বন্দর সম্প্রসারণ, অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা ও সম্ভাব্য এলএনজি টার্মিনাল ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের মতে, বড় উন্নয়ন প্রকল্পের পাশাপাশি উপকূলের মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ নিরসনেও কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। দুর্গম এলাকার যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সুপেয় পানির সংকট দূর করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুযোগ বাড়ানো এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। পর্যটনের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এসব সীমাবদ্ধতার কারণে পিছিয়ে রয়েছে জনপদটি।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে তাই নলিয়ানসহ উপকূলীয় এলাকার মানুষের প্রত্যাশা শুধু নতুন প্রকল্প বা বিনিয়োগে সীমাবদ্ধ নয়। তাদের আশা, দাকোপ ও মোংলার অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি নদীভাঙন, নিরাপদ পানির সংকট ও যোগাযোগের দুর্ভোগ নিরসনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই সফর উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ঘোচানোর নতুন পথ খুলে দেবে।

