logo
Advertisement

ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু চালু, স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস

এশিয়া পোস্ট নিউজ,সাভার (ঢাকা)
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু চালু, স্থানীয়দের উচ্ছ্বাস
সেতুতে যান চলাচল উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম। বুধবার সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া দেওয়া হয়েছে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের দুটি লেনের দুই সার্ভিস সেতু। এতে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিম পূর্বাঞ্চলের অন্যতম প্রধান ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া অঞ্চলের দীর্ঘ যাতায়াত ভোগান্তির অবসান ঘটার আশা করা হচ্ছে।

Advertisement

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে আশুলিয়ার ধউর এলাকায় ফিতা কেটে যান চলাচল উদ্বোধন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলাম।

তিনি বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর দীর্ঘ উড়ালসড়ক ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে প্রকল্পটির কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। এই ধারাবাহিকতায় একাংশ খুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। আগামী বছরের মধ্যে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে।

রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত প্রবেশদ্বার আশুলিয়া হয়ে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ নিশ্চিত করতে ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) অনুমোদনের প্রায় পাঁচ বছর পর ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়।

নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ ধীরগতিতে চলায় আশুলিয়া ও এর আশপাশের মানুষের ভোগান্তি বাড়ে। পরে কাজের গতি বাড়ানো হলে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতি জুলাই পর্যন্ত ৭২ শতাংশে পৌঁছায়।

প্রকল্পটির দ্বিতীয় সংশোধনীতে ব্যয় প্রায় ৫৪ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। বর্তমানে প্রকল্পটির নির্মাণ ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ হাজার ৪৫ দশমিক ৬৭ কোটি টাকা।

সংশোধিত প্রকল্পে ড্রেনেজব্যবস্থা ও ভূগর্ভস্থ বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের পাশাপাশি নতুন নকশায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাইপাইলে নির্মাণ করা হবে তিনতলা দৃষ্টিনন্দন ‘ট্রাম্পেট ইন্টারচেঞ্জ’।

তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে দুটি যান সেতু যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে বলে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তারা বলছেন, তুরাগ নদের পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে আশুলিয়া বাজার থেকে ধউর বেড়িবাঁধ পর্যন্ত বিদ্যমান সড়কটি রাখা হচ্ছে না। ফলে নতুন সার্ভিস লেন ব্যবহার করে টোল ছাড়া তুরাগ নদ পার হওয়া যাবে।

যান চলাচল উন্মুক্ত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। আশুলিয়া এলাকার বাসিন্দা দীপংকর দাস বলেন, আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ে অবশেষে চালু হয়েছে। এত দিন অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। আশা করছি এখন যানজট থেকে অনেকটা রক্ষা পাব।

বাবুল হোসেন নামে সড়কে চলাচলরত এক পথচারী বলেন, যানজট নিরসনে এক্সপ্রেসওয়ে অনেক ভূমিকা রাখবে। উত্তরা থেকে আশুলিয়া আসতে প্রচুর ভোগান্তি হতো। এখন আর ভুগতে হবে না আশা করছি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা-১৯ (সাভার) আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মো. সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ (উত্তরা) আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সিএমসি প্রেসিডেন্ট কিউ আই ইয়ি এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ বক্তব্য দেন।

স্থানীয় সংসদ সদস্য দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু বলেন, আশুলিয়াবাসীর দীর্ঘ দিনের স্বপ্নের প্রকল্প এটি। অনেক ঘটনা ঘটেছে দীর্ঘ দিন ধরে। এখানে প্রচুর কারখানা এগুলো সামাল দিতে বেগ পোহাতে হয়েছে। আজকে চালুর মধ্য দিয়ে সেই ভোগান্তি কমবে। সবাই উপকার ভোগ করবে।