সাকিব হত্যা মামলায় ৮ আসামি গ্রেপ্তার, অস্ত্রও উদ্ধার

চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁওয়ে মোবাইল ফোন নিয়ে বিরোধের জেরে প্রকাশ্যে মোহাম্মদ সাকিব (২২) নামে এক তরুণকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭। এ সময় তাদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (২৩ আগস্ট) নগর, জেলা ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে তিনজন মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। তারা হলেন মো. ইমন (২২), মো. রায়হান (২৫) ও মো. শাহেদ সালমান (২২)। অপর পাঁচজন হলেন মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মো. সাকিব হোসেন (১৮), মো. আছমান (২৩) ও মো. ফয়সাল (২৩)। তাদের নাম এজাহারে না থাকলেও তদন্তে হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
র্যাব ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত সাকিব চান্দগাঁও এলাকার একটি ময়দার মিলে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার প্রায় ১০ দিন আগে ইমন স্থানীয় এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন জোর করে নিয়ে যান। পরে সাকিব বিষয়টি জানতে পেরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ফোনটি উদ্ধার করে দেন। এতে ইমন ও তার সহযোগীরা সাকিবের ওপর ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে গত ২০ আগস্ট সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি ফেরার পথে চান্দগাঁওয়ের মোহরা কামাল বাজার এলাকায় সাকিবের পথরোধ করেন অভিযুক্তরা। এ সময় ইমন তাকে অটোরিকশা থেকে টেনে নামিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। পরে অন্যরাও তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করেন। এরপর তারা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা সাকিবকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় সাকিবের বাবা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ছয় থেকে সাতজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, ঘটনার পর থেকেই আসামিরা আত্মগোপনে ছিলেন। ছায়াতদন্ত ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মূল আসামিসহ আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা আলামতসহ তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



