কীর্তিনাশায় ডলফিনের লাফালাফি, ভিডিওটি ‘এআই’ বলছে মৎস্য কর্মকর্তা
-a6eab4-720x405.webp)
কীর্তিনাশা নদীর পানিতে ডলফিনের লাফালাফি—এমন একটি ১৯ সেকেন্ডের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। মুহূর্তেই কৌতূহল তৈরি হলেও ভিডিওটি বাস্তব কি না, তা নিয়েই এখন প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, নদীতে এমন দৃশ্য আগে কখনও দেখা যায়নি; জেলা মৎস্য কর্মকর্তারও সন্দেহ, ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার মুন্সিরহাট খেয়াঘাটসংলগ্ন কীর্তিনাশা নদীতে প্রাণীটির লাফালাফির ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ১৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে নদীর পানির এক পাশ থেকে অন্য পাশে ডলফিন সদৃশ প্রাণীটিকে লাফিয়ে যেতে দেখা যায়। পুরো ভিডিওতে প্রাণীটিকে অন্তত চারবার লাফাতে দেখা গেছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কীর্তিনাশা নদীতে এ ধরনের প্রাণীর এভাবে লাফিয়ে ওঠার ঘটনা তারা আগে দেখেননি বা শোনেননি।
মুন্সিরহাট খেয়াঘাটে নদী পারাপারের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন মাঝি বলেন, কীর্তিনাশা নদীতে শুশুক রয়েছে। মাঝেমধ্যে নদীর পানিতে শুশুক দেখা যায়। তবে তারা কখনও ডলফিন দেখেননি। ভিডিওতে প্রাণীটিকে যেভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বারবার লাফাতে দেখা যাচ্ছে, সেটি তাদের কাছে স্বাভাবিক মনে হয়নি।
স্থানীয়দের অনেকে ধারণা করছেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি অথবা সম্পাদনা করা হয়ে থাকতে পারে। যাচাই ছাড়াই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় এ নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দাস বলেন, সম্প্রতি নদীর পানির উচ্চতা ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বেড়েছে। এ কারণে বড় নদী থেকে ডলফিন ছোট নদীতে চলে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখে তারও এআই দিয়ে তৈরি বলে মনে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নদীতে ডলফিন আসার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। পানির উচ্চতা বাড়লে বড় নদী থেকে ছোট নদীতে ডলফিন বা অন্যান্য জলজপ্রাণী চলে আসতে পারে। তবে ভিডিওতে প্রাণীটিকে যেভাবে এক পাশ থেকে অন্য পাশে বারবার লাফাতে দেখা যাচ্ছে, সেটি স্বাভাবিক আচরণ বলে মনে হচ্ছে না।
তার মতে, একটি ডলফিন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে এভাবে এক পাশ থেকে অন্য পাশে লাফাতে পারে না। এ কারণে ভিডিওটি এআই দিয়ে তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করছেন তিনি।
ভিডিওটির আসল উৎস বা ধারণকারীর পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখেই যাচাই ছাড়া শেয়ার না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



