যুক্তরাষ্ট্রে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে বাংলাদেশি নারীকে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কৃষ্ণাঙ্গ এক সন্ত্রাসী বাংলাদেশি এক নারী ব্যবসায়ীকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে নিহতের ভাই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ১৮ নম্বর কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিক এশিয়া পোস্টকে তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ফ্লোরিডা স্টেটের ফোর্ট মায়ার্স সিটিতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সামনে এই হত্যাকাণ্ডের শিকার হন তিনি।
নিহত ইয়াসমিন চৌধুরী (৪৮) ইউপি চেয়ারম্যান মানিকের ছোট বোন। তিনি একমাত্র কন্যা সন্তানের জননী। তার মেয়ে ফ্লোরিডায় ডাক্তারি পড়ছেন। এছাড়া নিহতের স্বামী যুক্তরাষ্ট্রে পৃথক ব্যবসায় সম্পৃক্ত।
নিলুফারের ওপর আক্রমণের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ঘাতক যুবকের পরনে ছিল লস অ্যাঞ্জেলেস লেকার্সের ২৪ নম্বর লেখা একটি হলুদ রঙের বাস্কেটবল জার্সি এবং পায়ে হলুদ জুতা। পিঠে ছিল একটি সাদা ব্যাগ। ভিডিওতে দেখা যায়, যুবকটি হাতে একটি বড় হাতুড়ি নিয়ে ইয়াসমিনের ওপর উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।
ভিডিওর শেষ দিকে দেখা যায়, ইয়াসমিন চৌধুরী গুরুতর আহত অবস্থায় স্টোরের বাইরে রক্তাক্ত হয়ে লুটিয়ে পড়ে আছেন। ঘাতক তাকে নিথর অবস্থায় ফেলে রেখে অত্যন্ত স্বাভাবিক ভঙ্গিতে হেঁটে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পুরো ঘটনাটি ঘটে মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে।
এদিকে কুশাখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহ উদ্দিন মানিকের ছোট বোনের এমন মৃত্যুসংবাদ এলাকায় পৌঁছলে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠে পরিবেশ। পরিবারের সদস্যরা জানান, ইয়াসমিন দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে আসছিলেন। অত্যন্ত পরিশ্রমী ও পরোপকারী হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। পরিবারের সচ্ছলতার আশায় প্রবাসে পাড়ি দিলেও এভাবে ঘাতকের হাতে প্রাণ দিতে হবে, তা কেউ কল্পনা করতে পারেননি।
বাংলাদেশে থাকা ইয়াসমিনের ভাতিজা ফেরদৌস হাসান মাহি বলেন, ‘আমার ফুফু প্রায় ৩০ বছর ধরে সপরিবারে আমেরিকায় বসবাস করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের ফোর্ট মায়ার্স সিটিতে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে ব্যবসা করছেন। ব্যবসার শুরু থেকেই এক কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী তার দোকানসহ আশপাশের সব দোকান থেকে চাঁদা আদায় করত। আগেও নিয়েছে, আজও সে চাঁদা নিতে আসে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে সে ক্ষুব্ধ হয়ে তার গাড়িতে হামলা করে। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে, হাতুড়ি দিয়ে ঘটনাস্থলেই পিটিয়ে হত্যা করে ওই সন্ত্রাসী।’
এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ফ্লোরিডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা। স্থানীয় বাংলাদেশি সংগঠনগুলো মেয়রের কার্যালয় এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে। প্রবাসীদের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর এ ধরনের হামলা ক্রমাগত বাড়ছে। সিসিটিভি ফুটেজে ঘাতকের চেহারা স্পষ্ট থাকা সত্ত্বেও দ্রুত গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।
ফোর্ট মায়ার্স পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তারা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘাতককে শনাক্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। সন্দেহজনক একজনকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হামলা হতে পারে। তবে ঠিক কী কারণে ইয়াসমিনকে লক্ষ্য করা হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ইয়াসমিনের মরদেহ স্থানীয় একটি হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশি কনস্যুলেট এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করছে।