যশোরে জামায়াতের ৩ নেতার পদ স্থগিত

যশোরের মণিরামপুরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর তিন নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। জেলা জামায়াতের নির্দেশে উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সভায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
পদ স্থগিত হওয়া তিন নেতা হলেন মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শূরা সদস্য মহিউল ইসলাম এবং পৌর টিম সদস্য ফারুক হোসেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আহসান হাবিব লিটন ও ফারুক হোসেনের পদ দুই মাসের জন্য এবং মহিউল ইসলামের পদ তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
তিন নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে জেলা ও উপজেলা জামায়াতের নেতারা পদ স্থগিতের বিষয়টি স্বীকার করলেও চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি কিংবা মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
মণিরামপুর উপজেলা জামায়াতের আমির ফজলুল হক বলেন, তিন নেতার পদ সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এটি দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চাঁদাবাজি, মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি বা টেন্ডারবাজির অভিযোগ সত্য নয় বলে দাবি করেন তিনি। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটি দলীয় সিদ্ধান্ত; বাইরে বিস্তারিত প্রকাশ করা যাবে না।
দলীয় সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমের খবর, গত ৩০ এপ্রিল মণিরামপুরে হরিহর নদ খনন থেকে তোলা মাটি বিক্রির অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন, জেলা শূরা সদস্য মহিউল ইসলামসহ দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়েও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।
সংঘর্ষের পর বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে মণিরামপুর থানায় পৃথক মামলা করা হয়। তবে পরে দলীয়ভাবে বিষয়টি আপস করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে জেলা জামায়াত তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির প্রধান ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য আরশাদুল আলম। সদস্য হিসেবে ছিলেন জেলা সহকারী সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম এবং জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুল মালেক।
দলীয় সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটির সদস্যরা মণিরামপুরে গিয়ে সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। তদন্তে আহসান হাবিব লিটনের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক প্রভাব খাটানো, গরুর হাট ইজারায় অংশগ্রহণের নামে আর্থিক সুবিধা নেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ ওঠে বলে সূত্রের দাবি। একই সঙ্গে ৩০ এপ্রিলের সংঘর্ষের ঘটনায় আহসান হাবিব লিটন, মহিউল ইসলাম ও ফারুক হোসেনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতেই তিন নেতার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জরুরি দায়িত্বশীল বৈঠকে জেলা জামায়াতের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বৈঠকে ইউনিয়ন পর্যায়ের আমির ও সেক্রেটারিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা আমির ফজলুল হক তখন ঢাকায় দলীয় বৈঠকে ছিলেন। তাই জেলা জামায়াতের সিদ্ধান্ত উপজেলা সেক্রেটারি খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।



