logo
Advertisement

জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা, আটকে দিলেন রেজিস্ট্রার

এশিয়া পোস্ট নিউজ, ফেনী
জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে জমি রেজিস্ট্রির চেষ্টা, আটকে দিলেন রেজিস্ট্রার
ফেনী সদর সাব রেজিস্ট্রার কার্যালয়। ছবি: এশিয়া পোস্ট

ফেনীতে জাল-জালিয়াতি ও ভুয়া কাগজপত্র উপস্থাপন করে জমি রেজিস্ট্রির অপচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছেন সাবরেজিস্ট্রার। জমি হস্তান্তরের প্রক্রিয়ায় জীবিত মাকে মৃত্যু দেখিয়ে ভুয়া কাগজপত্র উপস্থাপন করা হলে রেজিস্ট্রারে কাছে ধরা পড়ায় তাৎক্ষণিকভাবে রেজিস্ট্রেশন স্থগিত এবং কাগজপত্রগুলো জব্দ করা হয়।

Advertisement

বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে জীবিত মা ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে গিয়ে এ বিষয়ে রেজিস্ট্রারকে বিস্তারিত তুলে ধরেন।

সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল রেজিস্ট্রি করতে যান সাজেদা আক্তার। তিনি ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের নদোনা গ্রামের মৃত মো. জাহিরুল হকের স্ত্রী। জহিরুল হক গত ২০২৩ সালের ১৯ আগস্ট মারা যান। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়ে ও তার মাকে জীবিত রেখে যান।

কিন্তু গত ২০২৩ সালের ২০ জুলাই সোনাগাজী উপজেলার বগাদানা ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সুবল চন্দ্র ও ইউপি প্রশাসক, সোনাগাজী উপজেলা পানি সম্পদ কর্মকর্তা দীপ্ত সাহা স্বাক্ষরিত একটি ওয়ারিশ সনদ নেন তিনি। এ ওয়ারিশ সনদে মরহুম মোহাম্মদ জহিরুল হকের মা হাজেরা খাতুনকে কৌশলে বাদ দেওয়া হয়। ওয়ারিশ সনদ দিয়ে জমা খারিজ করা হয়েছে যেখানে মায়ের নাম উল্লেখ নেই।

সেই ওয়ারিশ সনদ ও জমা খারিজ দিয়ে ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে সোমবার বিকেলে ফেনী পৌর এলাকার রামপুর মৌজার সাড়ে ৪ শতক সম্পত্তি বিক্রির উদ্দেশ্যে দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য যান সাজেদা আক্তার। তখন তা ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান মোহাম্মদ তামিমের সন্দেহ হয়। পরে এ নিয়ে তিনি বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তিনি। জিজ্ঞাসার একপর্যায়ে মরহুম জহিরুল হকের স্ত্রী সাজেদা আক্তার স্বীকার করেন তার শাশুড়ি জীবিত রয়েছেন। পরে সাব রেজিস্ট্রার দলিল সম্পাদনা থেকে বিরত থেকে কাগজপত্র জব্দ করেন।

পরে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে মরহুম মো. জহিরুল হকের মা হাজেরা খাতুন ফেনী সদর সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় উপস্থিত হয়ে নিজেকে জীবিত দাবি করেন। এ সময় দলিল রেজিস্ট্রেশন না করার জন্য রেজিস্ট্রারকে ধন্যবাদ জানান।

দলিল লেখক আবু ছালেহ টিপু জানান, আমাকে যেভাবে জমা খারিজ ও ওয়ারিশ সনদ এনে দিয়েছে, আমি সেভাবে দলিল লিখে দিয়েছি। পরে তথ্যপ্রমাণে জমাখারিজ ও ওয়ারিশ সনদ ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় উক্ত ভূমির রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে।

ফেনী সাবরেজিস্ট্রি অফিসের রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান মোহাম্মদ তামিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে মূল মালিকানা ও কাগজপত্র শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় তথ্য গরমিল পাওয়ায় তাৎক্ষণিক রেজিস্ট্রি বন্ধ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে দলিল রেজিস্ট্রির চেষ্টা করা হলে বিষয়টি আমার নজরে আসে। শাশুড়িকে মৃত দেখিয়ে ভুয়া জমা খারিজ ও ওয়ারিশ সনদ তৈরি করে এনেছিল জমি রেজিস্ট্রেশনের জন্য। পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করে তার শাশুড়ির জীবিত রয়েছে। এ বিষয়ে উপস্থাপিত কাগজপত্র জব্দ করা হয়েছে। জমি ক্রয়-বিক্রয়ে প্রতারণা বা রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হলে কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।