রমজান ঘিরে বেড়েছে ডাল আমদানি

মাহে রমজান ঘিরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে ডাল ও ছোলা আমদানির পরিমাণ বেড়েছে। গত ১৮ দিনে এই বন্দর দিয়ে ৫ হাজার টনেরও বেশি ডালজাতীয় শস্য আমদানির অনুমতি বা আইপি দেওয়া হয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই আমদানির খবরে স্থানীয় বাজারে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।
আমদানিকারক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, রমজানের শুরুতেই এসব পণ্য বাজারে পুরোপুরি সরবরাহ হলে ডাল ও ছোলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।
সোনামসজিদ স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকা খেসারি ডালের ২ হাজার ৩০ টন আইপি অনুমোদনের বিপরীতে ইতোমধ্যে ১ হাজার ২১৪ টন পণ্য বন্দরে প্রবেশ করেছে। এছাড়া ১ হাজার ৬০০ টন মসুর ডাল আমদানির অনুমোদনের বিপরীতে ৬৩৫ দশমিক ৯৯ টন দেশে ঢুকেছে। রমজানের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ ছোলার জন্য ১ হাজার ৫২৬ টনের আইপি অনুমোদন থাকলেও এখন পর্যন্ত ১২০ টন বন্দরে এসে পৌঁছেছে। পাশাপাশি নতুন কোনো আইপি না থাকলেও পূর্বের অনুমোদনের বিপরীতে ১৪৯ টন মটর ডাল এবং আগে অনুমতি পাওয়া ২০০ টন মাষকলাই আমদানির প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
আমদানিকারক আজিজুর রহমান জানান, প্রতিবছর রমজান মাসে ডাল ও ছোলার চাহিদা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে এবার আগাম আমদানির অনুমতি পাওয়ায় বাজারে সরবরাহের কোনো ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা নেই। আরেক আমদানিকারক সাইফুল ইসলাম বলেন, আমদানিকৃত বড় বড় চালানগুলো দ্রুত বাজারে পৌঁছাতে শুরু করলে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে ডাল ও ছোলার দাম আগের চেয়ে অনেক কমে আসবে।
এ বিষয়ে সোনামসজিদ উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপপরিচালক সমীর চন্দ্র ঘোষ এশিয়া পোস্টকে জানান, আমদানি পণ্যগুলোর গুণগত মান ও পরীক্ষা দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করে খালাসের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে করে ভোক্তারা সঠিক সময়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্যগুলো হাতে পান। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রমজানে বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল থাকবে।
এদিকে বর্তমান বাজার দর সম্পর্কে চাঁপাইনবাবগঞ্জের কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মোমিনুল ইসলাম জানান, জেলায় বর্তমানে প্রতি কেজি মাষকলাইয়ের ডাল ১৫০-১৬০ টাকা, মানভেদে মসুর ডাল ৮০-১৫০ টাকা, মুগ ডাল ১৫০-১৬০ টাকা, ছোলা ১২০-১২৫ টাকা, মটর ১২০-১২৫ টাকা এবং খেসারির ডাল ৮০-৮৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বর্তমানে এসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে এবং সরবরাহ বাড়লে তা আরও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আসবে।