logo

জয়পুরহাট/সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা

সীমান্তে তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির বাধা
জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত এলাকা। ছবি : এশিয়া পোস্ট

জয়পুরহাট সদর উপজেলার পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত দিয়ে তিন যুবককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার (পুশইন) অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। পরে সীমান্তের প্রায় দুই কিলোমিটার ভেতরে কড়িয়া বাজারে আসা ওই তিন যুবককে স্থানীয়রা আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরবর্তীতে বিজিবি সদস্যরা তাদের সীমান্তের ২৭৬ নম্বর মূল পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিএসএফের সদস্যরা তিন যুবককে ২৭৬ নম্বর মূল পিলার এলাকা দিয়ে জোরপূর্বক বাংলাদেশে ঠেলে দেন। সীমান্ত অতিক্রমের পর তারা হেঁটে কড়িয়া বাজারে চলে আসেন। তিন যুবকের পরনের কাপড় ভেজা দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভারতীয় সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে আসার কথা স্বীকার করেন। পরে স্থানীয়রা তাদের আটক করে নিকটস্থ বিজিবি ক্যাম্পে খবর দেন।

সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বিজিবি সদস্যরা ওই তিন যুবককে ২৭৬ নম্বর মূল পিলারের কাছে নিয়ে গিয়ে আবার ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে পাঠিয়ে দেন।

ঘটনাটি নিয়ে বেলা ১১টার দিকে বিএসএফ-১২৩ ব্যাটালিয়নের দুর্গাপুর ক্যাম্প ও বিজিবি-১৪ পত্নীতলা ব্যাটালিয়নের কড়িয়া বিওপির মধ্যে এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে বৈঠকে বিষয়টির কোনো সুরাহা হয়নি। পরবর্তীতে আরও একটি পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

দুপুর ১২টার দিকে রামকৃষ্ণপুর সীমান্ত এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ২৭৬ নম্বর মূল পিলার থেকে প্রায় ৩০০ গজ দূরে সড়কের পাশে বিজিবি সদস্যদের সঙ্গে পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা অবস্থান করছেন। ওই তিন যুবক তখন ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিলেন বলে জানান স্থানীয়রা।

পশ্চিম রামকৃষ্ণপুর গ্রামের বাসিন্দা মারুফ হোসেন বলেন, ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে বিএসএফ তিন যুবককে ২৭৬ নম্বর পিলার দিয়ে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। তারা কড়িয়া বাজারে চলে এলে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে বিজিবিকে খবর দেন। পরে বিজিবি সদস্যরা তাদের আবার সীমান্তের ওপারে পাঠিয়েই দেন।

আইয়ুব হোসেন নামের আরেক বাসিন্দা বলেন, ওই তিন যুবকের পরনের কাপড় ভেজা দেখে আমাদের সন্দেহ হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ভারতীয় সীমান্ত থেকে বাংলাদেশে আসার বিষয়টি জানান।

সীমান্তঘেঁষা মাঠে কাজ করা আজিম হোসেন বলেন, মঙ্গলবার সকাল থেকে আমি মাঠে কাজ করছিলাম। সকাল সাতটার পর বিজিবি তিন যুবককে এনে সীমান্তের ২৭৬ নম্বর পিলারের কাছে রেখে যায়।

বিজিবির কড়িয়া বিওপির কমান্ডার মহাতাব উদ্দিন বলেন, বিএসএফ তিন যুবককে অবৈধভাবে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠিয়েছিল। বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের আবার ভারতীয় সীমান্তের অভ্যন্তরে ফেরত পাঠিয়েছে। প্রথম দফার পতাকা বৈঠকে কোনো সমাধান হয়নি, চার ঘণ্টা পর ফের পতাকা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।