আখ সংকটে ১৩ দিন আগেই বন্ধ নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল, লোকসানের শঙ্কা

আখ সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের ১৩ দিন আগেই বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে নাটোরের লালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের চলতি মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম। আখের সরবরাহ না থাকায় এবং চিনি আহরণের হার কমে যাওয়ায় অর্জিত হয়নি চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা। ফলে চলতি মৌসুমে মিলটি বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আসহাব উদ্দিন মাড়াই কার্যক্রম বন্ধের বিষয়টি এশিয়া পোস্টকে নিশ্চিত করেন।
মিল সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ নভেম্বর ২০২৫-২৬ মৌসুমের মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি মৌসুমে মিল এলাকায় ১৮ হাজার একর জমিতে আখ চাষের মাধ্যমে ২ লাখ টন আখ সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে ১৩ হাজার টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল কর্তৃপক্ষের। কিন্তু আখের অভাবে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে মিল কর্তৃপক্ষ।
১০ নভেম্বর থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০৮ কর্মদিবসে মিলটি প্রায় ১ লাখ ৭২ হাজার টন আখ মাড়াই করতে সক্ষম হয়েছে। এতে চিনি উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৯ হাজার ৬০০ টন। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ২৮ হাজার টন আখ কম মাড়াই হয়েছে এবং চিনি উৎপাদন ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪০০ টনে।
উৎপাদন কমার পাশাপাশি চিনি আহরণের হারেও বড় বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। চলতি মৌসুমে চিনি আহরণের হার ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হলেও বাস্তবে তা নেমে এসেছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশে।
মিলের মহাব্যবস্থাপক (কৃষি) আসহাব উদ্দিন এশিয়া পোস্টকে বলেন, চাষিদের আখ চাষে উৎসাহিত করতে চলতি মৌসুমে সরকার প্রতি মণে ২৫ টাকা বাড়িয়ে আখের মূল্য ৬০০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৬২৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল। আমরা চাষিদের মাঝে ১৫ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছি এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রায় ১৫ হাজার চাষির বিল দ্রুত পরিশোধ করেছি। তবুও আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী না হওয়ায় এবং সরবরাহ ঘাটতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাড়াই বন্ধ করতে হয়েছে।