মিয়ানমারের জঙ্গলে ৫০ দিন জিম্মি থাকার পর কিশোর উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৪

কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে ৫০ দিন জিম্মি করে রাখা হয়েছিল জুবায়ের (১৭) নামে এক কিশোরকে। বয়স কম হওয়ায় পুনরায় টেকনাফে ফেরত এনে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করছিল একটি চক্র। অবশেষে পুলিশ অভিযান চালিয়ে জিম্মিদশা থেকে ওই কিশোরকে উদ্ধার করে এবং ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করে।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দরগাহছড়া এলাকায় নুরুল ইসলামের বসতবাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজার জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস।
উদ্ধার হওয়া কিশোর জুবায়ের টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের ঝিমংখালী এলাকার মৃত ইমাম হোসেনের ছেলে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন টেকনাফ সদর ইউনিয়নের দরগাহছড়া এলাকার মৃত কাসেম আলীর ছেলে নুরুল ইসলাম (৫০) ও ছিদ্দিক আহমদ (৫৪), একই এলাকার মৃত আব্দুস ছালামের ছেলে আব্দুল্লাহ (২৫) এবং উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর ক্যাম্পের (ব্লক-এফ-১৭) আলী আকবরের ছেলে হামিদ উল্লাহ (১৯)।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের একটি দল দরগাহছড়া এলাকায় নুরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে অপহৃত জুবায়েরকে উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণ ও মানবপাচার চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফ ও কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে লোকজন সংগ্রহ করে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে বিদেশে পাচার এবং মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। ভিকটিম জুবায়েরকে প্রায় দুই মাস আগে মালয়েশিয়া পাচারের উদ্দেশ্যে সমুদ্রপথে নিয়ে গিয়ে মিয়ানমারের জঙ্গলে প্রায় ৫০ দিন আটকে রাখা হয়। পরে বয়স কম হওয়ায় তাকে পুনরায় বাংলাদেশে এনে আটক নুরুল ইসলামের বাড়িতে আটকে রেখে মুক্তিপণ দাবি করে।
অলক বিশ্বাস আরও বলেন, জুবায়েরের পরিবার বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও তাকে মুক্তি না দিয়ে আরও টাকা দাবি করছিল চক্রটি। পরে পরিবারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করেছে। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইক জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। তাদের বিরদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে বলে জানান পুলিশের এ কর্মকর্তা।