
জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগীর বেডের পাশেই গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন অন্য রোগীরা। নির্ধারিত শয্যা না পেয়ে কেউ মেঝেতে আবার কেউ করিডোরে আশ্রয় নিয়েছেন। কোনো কোনো শয্যায় জায়গা ভাগাভাগি করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে একাধিক রোগীকে। স্থান ও শয্যা সংকটে এমন নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে হাসপাতালটিতে।
সম্প্রতি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়লেও তাদের জন্য আলাদা কোনো ডেঙ্গু কর্নার বা ওয়ার্ড চালু করতে পারেনি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ফলে বর্তমানে ভর্তি থাকা ২৪ জন ডেঙ্গু রোগীকেও সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে হাসপাতালের নিচতলার মেডিসিন ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। ওয়ার্ডজুড়ে রোগীর চাপ এতটাই বেশি যে অনেক স্থানে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। বেডের পাশাপাশি করিডোর ও এমনকি সিঁড়িতেও রোগীদের চিকিৎসা নিতে দেখা যায়। এর মধ্যেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের রাখা হয়েছে অন্যান্য রোগীর পাশে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২৫৭ জন রোগী। তাদের মধ্যে ২৩৩ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ২৪ জন রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সর্বশেষ একদিনে নতুন করে চারজন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং একই সময়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন আরও চারজন।
ডেঙ্গু আক্রান্ত মোজাহিদ তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। তার বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার বাঁশচড়া এলাকায়। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কয়েক দিন জ্বর ও শারীরিক দুর্বলতায় ভোগার পর হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু বেড না পেয়ে মেঝেতে বসেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাকে।
মোজাহিদ বলেন, তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছি। রোগীর অনেক চাপ থাকায় বেড পাইনি। মেঝেতে বসেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। রাতে ঠিকমতো বিশ্রামও নেওয়া যায় না। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা থাকলে হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাওয়া যেত। এখন কিছুটা সুস্থ আছি, তবে এভাবে চিকিৎসা নিতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। হাসপাতালের ডাক্তার-নার্সরা চেষ্টা করছেন, কিন্তু রোগী বেশি হওয়ায় সবাইকে সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক রোগী থাকায় মশারিও টানানো যায় না। গরম অনেক, কারেন্টও চলে যায়। মশারি টাঙানোর জায়গাও নাই, পাশে অন্য রোগী, তাই টানানো হয়নি।
মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজন আবদুল হান্নান বলেন, ডেঙ্গু তো ঝুঁকিপূর্ণ রোগ, এদের জন্য আলাদা ডেঙ্গু কর্নার বা পৃথক ব্যবস্থা থাকা খুব জরুরি ছিল। একই সাধারণ ওয়ার্ডে ডেঙ্গু রোগী আর অন্য রোগী একসঙ্গে রাখা হয়েছে। এদের সাথে ডেঙ্গু রোগীদের ভর্তি করায় অন্য রোগীদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাছাড়া রোগীর অতিরিক্ত চাপে চিকিৎসা তো দূরের কথা, সাধারণ হাঁটাচলা করাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
হাসপাতালটির শয্যাসংখ্যা ২৫০ হলেও প্রতিদিন সেখানে গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই অতিরিক্ত রোগীর চাপ, শয্যা সংকট ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে চিকিৎসাসেবা দিতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে।
জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. সোহানুর রহমান বলেন, হাসপাতালটি ২৫০ শয্যার হলেও প্রতিদিন গড়ে ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেয়। ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েক গুণ বেশি রোগী হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন করে ডেঙ্গু ওয়ার্ড চালুর মতো পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই ডেঙ্গু রোগীদের মেডিসিন ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

