হাসপাতালের পরিবেশ দেখে ক্ষুব্ধ এমপি, বর্জ্য অপসারণে কড়া নির্দেশ

ফরিদপুরের ১০০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে হাসপাতালটির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নোংরা পরিবেশ নিয়ে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। পরিচ্ছন্নতার দশা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাসপাতালটি দেখে মনে হয় যেন এটি একটি ডাস্টবিন হয়ে আছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এদিনই প্রথম সভায় অংশ নেন এই সংসদ সদস্য।
সভার আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, সেবা কেন্দ্র ও আঙিনা ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের তিনি জানান, হাসপাতালের পেছনের অংশে বর্জ্য ফেলার স্থান দেখে তিনি অত্যন্ত হতাশ হয়েছেন। জমানো ময়লা-আবর্জনা দ্রুত অপসারণের জন্য ফরিদপুর পৌরসভা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ আরও বলেন, দীর্ঘদিন জবাবদিহিতা না থাকায় সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছে। গত ১৭ বছরের জমে থাকা এই জট দূর করতে কিছুটা সময়ের প্রয়োজন। তবে বর্তমান সময়ে জনপ্রতিনিধিদের জনগণের কাছে জবাবদিহির মানসিকতা নিয়েই দায়িত্ব পালন করতে হবে।
হাসপাতালের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে এমপি জানান, ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যেই ডিও লেটার (আধাসরকারি পত্র) পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এর আগে, অনুষ্ঠিত সভায় হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ, আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, চিকিৎসক-নার্স ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের গতিশীলতা আনা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা, সরকারি ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং জরুরি বিভাগের সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক কাজী ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্যসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক এ এস এম আনিছুর রহমান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামান, ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যবৃন্দসহ স্থানীয় চিকিৎসকরা।



