আগাম জাতের ফুলকপিতে বিরল রোগ, দিশেহারা কৃষক

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় আগাম জাতের ফুলকপিতে অজ্ঞাত রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে গাছের পাতা নষ্ট হয়ে পরে পুরো গাছ পচে যাওয়ায় ফলন নিয়ে শঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। বিভিন্ন ধরনের সার ও বালাইনাশক ব্যবহার করেও প্রতিকার না পাওয়ার দাবি করেছেন তারা।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অধিক লাভের আশায় চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আগাম জাতের ফুলকপির আবাদ করা হয়। তবে হঠাৎ করে অজ্ঞাত রোগের আক্রমণে অনেক ক্ষেতের গাছ নষ্ট হতে শুরু করেছে। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
দামুড়হুদা উপজেলার হেমায়েতপুর গ্রামের কৃষক জসিম উদ্দিন দুই বিঘা জমিতে আগাম জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, প্রথমে গাছের পাতা নষ্ট হতে শুরু করে। এরপর কয়েক দিনের মধ্যে পুরো গাছ পচে যায়। বিভিন্ন ধরনের কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

একই গ্রামের কৃষক আবু হানিফ বলেন, গ্রামের প্রায় সব ফুলকপির ক্ষেতে একই ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে গাছ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হলে চাষে বিনিয়োগ করা অর্থও উঠে আসবে না।
একই গ্রামের কৃষক আবু হানিফ বলেন, গ্রামের সব কপির ক্ষেতে এ রোগ দেখা দিয়েছে। ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পুরো ক্ষেত। কপি চাষে যে খচর হয়েছে এ বছর তা উঠবে না। ফলে চরম লোকসানের মুখে পড়তে হবে।
দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি অফিসের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা অভিজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৭২৬ হেক্টর জমিতে ফুলকপির আবাদ হয়েছে। আক্রান্ত ক্ষেতগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে বৈরী আবহাওয়া এবং জমিতে অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ব্যবহারের কারণে এ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত জমিতে পরিমিত সার ব্যবহার, সঠিক বালাইনাশক প্রয়োগ এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চলতে কৃষকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে কৃষি বিভাগের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
