খুলনায় রবীন্দ্রনাথের দেয়ালচিত্রে কালি, পাশে বিতর্কিত পোস্টার

প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেওয়ালে দেশবরেণ্য কবি, সাহিত্যিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের ছবি এঁকেছিল খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি)। কিন্তু এরই মধ্যে নগরীর শিববাড়ী মোড়ে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেওয়াচিত্রের মুখে কালো কালি লেপে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া সাঁটানো হয়েছে রবীন্দ্রবিরোধী পোস্টার। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শিববাড়ী মোড়ের দেয়ালে আঁকা বিভিন্ন মনীষীর প্রতিকৃতি অক্ষত থাকলেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মুখমণ্ডল কালো কালি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। প্রতিকৃতির মাথার কাছে লাগানো রয়েছে দুটি পোস্টার। সেগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ তুলে বিভিন্ন বক্তব্য লেখা হয়েছে।
একটি পোস্টারে লেখা রয়েছে, ‘তিতুমীরের বাংলায়, মুসলিম পূর্ব বাংলায় বিদেশীর ঠাঁই নাই, ভারত বন্দনার ঠাঁই নাই। পোস্টারগুলোর বক্তব্য থেকে রবীন্দ্রনাথের প্রতি বিরূপ মনোভাবের কারণে প্রতিকৃতিটি বিকৃত করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ওই দেয়ালচিত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ছাড়াও বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে কেসিসির উদ্যোগে আঁকা এসব দেয়ালচিত্র ইতোমধ্যে নগরবাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। অনেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে প্রতিকৃতিগুলোর সামনে ছবি তুলেছেন। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনে এমন উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন তারা।
স্থানীয় কয়েকজন পথচারী জানান, দেয়ালচিত্রগুলো নগরীর সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। তবে একটি প্রতিকৃতি এভাবে বিকৃত করা দুঃখজনক। কারও বক্তব্য বা ঐতিহাসিক ভূমিকা নিয়ে আপত্তি থাকলে তা প্রকাশের গণতান্ত্রিক পথ রয়েছে। শিল্পকর্ম নষ্ট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে কালি লেপনের ঘটনাকে আমরা সমর্থন করি না। প্রয়োজন হলে সেখানে আবারও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি আঁকার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা খুলনার অতীত ঐতিহ্য, এই অঞ্চলের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখেছেন, তাদের ছবি এঁকেছি। পাশাপাশি জাতীয় কবি ও সাহিত্যিকদের প্রতিকৃতিও তুলে ধরেছি। এর মধ্যে কেন এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে, তা আমি জানি না। বিষয়টি জানার চেষ্টা করব।
