logo
Advertisement

রংপুরে ৪ খুন/ডোপ টেস্টে আসামির শরীরে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা

এশিয়া পোস্ট নিউজ,রংপুর
ডোপ টেস্টে আসামির শরীরে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ার কারণ জানালেন বিশেষজ্ঞরা
রংপুরে আলোচিত চার খুনের মামলায় দুই আসামিকে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

রংপুর নগরীর কামালকাছনায় একই পরিবারের চারজনকে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি না পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, নমুনা বা প্রস্রাব সংগ্রহ করে পরীক্ষা করতে দেরি হওয়ায় তাদের শরীরে মাদকের আলামত ধরা পড়েনি।

Advertisement

সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকালে রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাসের ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে মাদকের অস্তিত্ব না পাওয়ার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে ডোপ টেস্টের ফলাফলকে ঘিরে নতুন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কারণ গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছিল, ইয়াবা সেবনের জন্য সিদ্ধার্থ ও মুগ্ধ গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির ছাদে গিয়েছিলেন। গণপতি ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় সপরিবারে হত্যার শিকার হন। তারা হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে ৯টি ইয়াবা সেবনের স্বীকারোক্তি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছিল।

রংপুর মেট্রোপলিটনের উপপুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী বলেন, মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে আদালতের নির্দেশে গতকাল রোববার রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গিয়ে দুই আসামির প্রস্রাবের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।

সনাতন চক্রবর্তী বলেন, ডোপ টেস্টের জন্য পরদিন থেকেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। তবে আসামিরা কারাগারে থাকায় তাদের নমুনা সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ছিল। এ জন্য আগেই আদালতে আবেদন করা হয়েছিল। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর নমুনা সংগ্রহ করতে আরও সময় লেগেছে। সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০ দিন পার হয়ে যাওয়ায় নমুনায় অ্যামফিটামিনের উপস্থিতি পাওয়ার কথা নয়।

চুলের নমুনা পরীক্ষা করা হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে সনাতন চক্রবর্তী বলেন, আমরা আদালতের কাছে নির্দেশনা চাইব। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী প্রক্রিয়া নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, যারা নিয়মিত মাদক গ্রহণ করে, অ্যামফিটামিন অনেক দিন পর্যন্ত রক্তে বা মূত্রে থাকে না। প্রস্রাবে সাধারণত পাঁচ থেকে সাত দিন থাকে। এর পরে আর পাওয়া যায় না। যেহেতু এরা সাত দিনের বেশি সময় ধরে আটক অবস্থায় আছে, হয়তো মাদক গ্রহণ করতে পারেনি। বিধায় এই টেস্টটা নেগেটিভ এসেছে।

তিনি আরও বলেন, আমি বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কাছে শুনেছিলাম, টেস্ট নেগেটিভ এসেছে। এটা আসাটাই স্বাভাবিক। কারণ সাত দিনের বেশি হলে প্রস্রাবের ভেতরে অ্যামফিটামিন পাওয়া যায় না।

রংপুর মেডিকেল কলেজের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, কাস্টরি থেকে স্যাম্পল সংগ্রহ করে দশ দিনের মাথায় ডোপ টেস্ট করানো হলো। যারা মাদক সেবন করে ইউরিনে তাদের রিপোর্ট পাওয়া যায় পাঁচ থেকে সাত দিন পর্যন্ত। আরও কম দিন হলে ভালো হয়। টেস্ট করতেই দেরি করেছে। তারা এডিক্টেড কি না সাত দিনের মধ্যে করলেই বোঝা যেত। পজিটিভ পাওয়া যায়নি তাই এডিক্টেড না। আবার যেহেতু ১০ দিনের পর ডোপ টেস্ট করা হয়েছে, তাই এডিক্টেড না—এটাও বলা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, রক্ত, লালা, মূত্র ও চুলের মধ্যে ডোপ টেস্টে মাদকের উপস্থিতি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় চুলে থাকতে পারে, প্রায় ৯০ দিন পর্যন্ত। কিন্তু হেয়ার স্পেসিমেন (চুলের নমুনা) নিয়ে এই পরীক্ষাগুলো আমাদের দেশে সম্ভবত হয় না। এজন্য বাইরে পাঠাতে হবে, সেক্ষেত্রে খুব ব্যয়বহুল হয়ে যায়।