নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীসহ দুজনকে খুন

নোয়াখালীর দুই উপজেলায় পৃথক ঘটনায় ব্যবসায়ীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। সদর উপজেলায় কিশোর গ্যাংয়ের দুপক্ষের সংঘর্ষে মো. কামাল উদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। বেগমগঞ্জ উপজেলায় জমি দখল কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রাকিব হোসেন নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩০ মে) রাতে দু্ই উপজেলায় পৃথক ঘটনা দুই মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ।
সদর উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের রামবল্লভপুর এলাকায় ইয়াবা সেবন ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কিশোর গ্যাংয়ের দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় এক পক্ষের পিটুনিতে গাছ ব্যবসায়ী কামাল উদ্দিন মারা যান বলে অভিযোগ ওঠে।
রাত ১০টার দিকে এই সংঘর্ষ ঘটে। নিহত কামাল একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের লেসি সরদার বাড়ির মৃত সোলাইমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা য়ায়, কামালের ছেলে তারেক ও ভাতিজা ফরহাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। শনিবার রাত ৯টার দিকে রামবল্লভপুর পুর এলাকার মিনু হাজী বাড়ি ও লেসি সরদার বাড়ির পার্শ্ববর্তী এলাকায় তাদের ইয়াবা বিক্রি ও সেবনকে কেন্দ্র করে উভয় বাড়ির কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের মধ্যে তর্কাতর্কি ও মারামারি হয়। এ সময় তারেকের বাবা মো. কামাল উদ্দিনকে মারধর করা হয়। তাকে আহত অবস্থায় নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
সুধারাম মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) রাম চন্দ্র ভট্টাচার্য বলেন, মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেগমগঞ্জ উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খানপুর এলাকায় জমি দখল কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে রাকিব হোসেন নিহত হন। এ সময় আরও দুজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত রাকিব খানপুর এলাকার মোহাম্মদ হানিফের ছেলে। আহতরা হলেন একই এলাকার মোহাম্মদ ইমন ও মেহরাজ।
জমি দখল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় মামুন গ্রুপ ও রাকিব গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলছিল। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের হামলায় রাকিব গ্রুপের কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রাকিব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। আর আহত মেহরাজের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
