বাগেরহাটে ফলজ চারা বিতরণ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে পরিবেশ সচেতনতা সভা

‘জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করি, নির্মল বায়ুর ভবিষ্যৎ গড়ি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বাগেরহাটে আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা, শপথ পাঠ ও বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বাগেরহাট সদর উপজেলার কে জে এস পি ইউ রাজাপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ ও ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ -এর যৌথ উদ্যোগে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিদ্যালয়ের হলরুমে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বায়ুদূষণের কারণ ও ক্ষতিকর প্রভাব, পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আলোচনা সভায় বাগেরহাটের পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম বলেন, নির্মল বায়ু মানুষের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম পূর্বশর্ত। বায়ুদূষণ কমাতে শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রতিটি নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিবেশ রক্ষায় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। শিক্ষার্থীরা সচেতন হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও নিরাপদ পরিবেশ পাবে।
কমিটির সহসভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান বলেন, পরিবেশ রক্ষার জন্য বৃক্ষরোপণ ও প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, তাই ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা জরুরি।
ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ -এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীম বলেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে শুধু চারা বিতরণ করলেই হবে না; গাছগুলো যাতে তারা নিজের সন্তানের মতো পরিচর্যা করে বড় করে তোলে, সেই দায়িত্ববোধও তৈরি করতে হবে। একজন শিক্ষার্থী একটি গাছের দায়িত্ব নিলে অল্প সময়ের মধ্যেই বিদ্যালয় ও এর আশপাশ সবুজ হয়ে উঠতে পারে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে বিদ্যালয়ের ভূমিকা অপরিসীম। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে তারা বায়ুদূষণের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানতে পারছে এবং পরিবেশ রক্ষায় নিজেদের করণীয় বুঝতে পারছে। আমরা চাই, শিক্ষার্থীরা এই শিক্ষা নিজ পরিবার ও সমাজেও ছড়িয়ে দিক।
শিক্ষার্থী সজীব শেখ বলে, আজকের অনুষ্ঠানে এসে বায়ুদূষণ আমাদের স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা জানতে পেরেছি। আমরা কেবল নিজেরা সচেতন থাকব না, পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদেরও পরিবেশ দূষণ প্রতিরোধে সচেতন করব। আর প্রাপ্ত গাছের চারাটি যত্নে বড় করার চেষ্টা করব।
আরেক শিক্ষার্থী ঐশী বলে, আগে গাছ লাগানোকে শুধুই ভালো কাজ হিসেবে দেখতাম। আজ বুঝতে পেরেছি, গাছ আমাদের নির্মল বাতাস দেয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে। আমাদের বিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকা সবুজ রাখতে নিজেরা গাছ লাগানোর পাশাপাশি অন্যদেরও উৎসাহিত করব।
আলোচনা সভা শেষে বিদ্যালয় মাঠে শিক্ষার্থীদের মাঝে কদবেল, পেয়ারা, আমলকী ও চালতাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এরপর শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক নির্মল বায়ু ও নীল আকাশ দিবসের শপথ পাঠ করানো হয়। এ সময় বায়ুদূষণ কমানো, পরিবেশ রক্ষা, বৃক্ষরোপণ এবং একটি সবুজ ও টেকসই পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে বাগেরহাটের পরিবেশ সুরক্ষা নাগরিক কমিটির সভাপতি মোল্লা নজরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মোল্লা মনিরুজ্জামান ও কার্যকরী সদস্য শেখ আব্দুল গণি উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান, সহকারী শিক্ষক সুজিত দাস, কার্তিক চন্দ্র দাস ও সাহানারা ইয়াসমিন মুন্নি এবং ইনিশিয়েটিভ ফর রাইট ভিউ -এর ফিল্ড কো-অর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ জসীমসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা উল্লেখ করেন, নির্মল বায়ু ও সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যক্তি, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবেশ রক্ষায় ছোট ছোট পদক্ষেপই ভবিষ্যতে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।


