logo

চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী

চট্টগ্রাম বন্দরের চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী
শারদীয় দুর্গাপূজা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। ছবি : এশিয়া পোস্ট

চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে হওয়া চুক্তিকে ‘দেশ বিক্রির চুক্তি’ বলা সস্তা ও অমূলক বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপূজা উপলক্ষে সিলেট সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, চট্রগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল নিয়ে যে চুক্তি হয়েছে, এটি টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য হয়েছে। এ ছাড়া এটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়েছে। এরপরে সেই চুক্তি বাংলাদেশ চাইলে নবায়ন হবে অথবা সেখানেই সেই চুক্তির যবনিকাপাত করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় টার্মিনাল নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর ডিপি ওয়ার্ল্ডকে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে ১৫ বছর মেয়াদি কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা চলছে।

চুক্তির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ কিংবা দেশীয় বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানির খরচ বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক পর্যায়ে নিয়ে আসতে হবে।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, সরকার বাংলাদেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় এগিয়ে নিতে না পারলে কীভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে?

খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, এ কারণেই সরকার চট্টগ্রাম বন্দরের দক্ষতা বাড়াতে চায়। বন্দরের কার্যদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যেই এ চুক্তি করা হয়েছে।

টার্মিনালের কর্মীদের চাকরির বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার নিশ্চিত হয়েছে, বন্দরে বর্তমানে কর্মরত কারও চাকরি যাবে না। দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে তাদের প্রত্যেকের সুবিধা বাড়বে। বর্তমানে তারা যে পারিশ্রমিক পান, ভবিষ্যতে তার পরিমাণও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি পোশাকের বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, চীন বরাবরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যতম প্রধান পোশাক রপ্তানিকারক দেশ। দেশটি নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে।

অন্যদিকে ভিয়েতনামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মুক্তবাণিজ্য সুবিধা থাকায় দেশটি বিভিন্ন সময়ে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে গেছে। আবার বাংলাদেশও কখনো কখনো সেই অবস্থান পুনরুদ্ধার করেছে।

তিনি বলেন, সরকার বিশ্বাস করে, আগামী দিনে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানিকারকেরা আবারও তাদের অবস্থান ফিরে পাবেন।