logo

১০ বেডের বিপরীতে ১৪০ শিশু ভর্তি, মেঝেতেই চিকিৎসা

১০ বেডের বিপরীতে ১৪০ শিশু ভর্তি, মেঝেতেই চিকিৎসা

দুই বছরের শিশু আবরারের জ্বরে শরীর কাঁপছে, শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছে। মা জান্নাতুল ফেরদৌস তাকে কোলে নিয়ে বসে আছেন শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের বাইরের মেঝেতে। একটি পাতলা চাদর আর বালিশই এখন তাদের একমাত্র ভরসা। সকাল থেকে কোনো শয্যা (বেড) না পেয়ে বাধ্য হয়ে মেঝেতেই শুরু হয়েছে শিশুর চিকিৎসা।

আবরারের মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, সকাল থেকে বাচ্চাডারে নিয়া বইসা আছি, বেড পাইনি। মেঝেতেই থাকতে হচ্ছে। ঠিকমতো শ্বাস নিতে পারছে না, একটু পরপর নেবুলাইজার দিতে হচ্ছে। কষ্ট হলেও তো আর কোনো উপায় নেই।

আবরারের মতো আরও প্রায় দেড় শতাধিক শিশু বর্তমানে এই হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। জ্বর, ঠান্ডা, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত এসব শিশুর চাপে ওয়ার্ডটির পরিস্থিতি এখন নাজুক।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ১০০ শয্যার এই হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ মাত্র ১০টি শয্যা। অথচ বর্তমানে সেখানে ভর্তি রয়েছে প্রায় ১৪০ জন শিশু। অর্থাৎ, শয্যা সংখ্যার চেয়ে ১৪ গুণ বেশি রোগী ভর্তি আছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৯ জন। এ ছাড়া প্রতিদিন বহির্বিভাগে আরও দুই শতাধিক শিশু চিকিৎসা নিতে আসছে।
​
সরেজমিনে দেখা গেছে, ওয়ার্ডের প্রতিটি কোণ রোগীতে ঠাসা। মেঝে, চলাচলের পথ, এমনকি সিঁড়ির পাশেও শিশুদের নিয়ে শুয়ে-বসে আছেন স্বজনেরা। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিনের পর দিন অবস্থান করায় সুস্থ হওয়ার বদলে উল্টো স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে বলে জানান অনেকে।

সদর উপজেলার ডোমসার গ্রাম থেকে পাঁচ বছরের ছেলে সাফওয়ানকে নিয়ে এসেছেন আরিফ হোসেন। তিনি বলেন, ডাক্তার ভর্তি হতে বললেও ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা ছিল না। শেষে সিঁড়ির পাশে মেঝেতে জায়গা হয়েছে। গরম আর মশার অত্যাচারে টেকা দায়।
​
রোগীর এই বাড়তি চাপে হিমশিম খাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরাও। শিশু ওয়ার্ডের নার্সিং ইনচার্জ খাদিজা আক্তার বলেন, ভর্তি সব শিশুই জ্বর ও নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। রোগী অনুযায়ী আমাদের নার্স অনেক কম। তারপরও সাধ্যমতো সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।

হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মিজানুর রহমান জানান, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে শিশুদের অসুস্থতা বাড়ে। বর্তমানে হাসপাতালে জ্বর, ঠান্ডা ও ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি। এই পরিস্থিতিতে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।

শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. রেহান উদ্দিন আহমেদ জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসক, নার্স ও শয্যার সংকট দীর্ঘদিনের। মৌসুমি রোগের সময় রোগীর সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে গেলে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা এই সীমিত জনবল নিয়েই সেবা চালিয়ে যাচ্ছি।
​