logo

প্রতিশোধ নিতে ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, বাদী গ্রেপ্তার

প্রতিশোধ নিতে ইমামের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা, বাদী গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার বাদী জাহানারা বেগম। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পটুয়াখালী মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিবসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ১২ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার বাদী জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ না পাওয়ার কথা আদালতে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পরে বাদীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি করেন জাহানারা বেগম (৬৩)। এতে মডেল মসজিদের ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেন, খাদেম সাব্বির ও আহমাদুল্লাহকে আসামি করা হয়।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, জাহানারা বেগমের ১২ বছর বয়সী নাতনি নাইমা রাবেয়া মডেল মসজিদে আরবি পড়তে যেত। ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় তাকে মক্তকের পাশের একটি স্টোররুমে নিয়ে তিন আসামি ধর্ষণ করেন। পরে শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার কথাও মামলায় উল্লেখ করা হয়।

আদালতের নির্দেশে তদন্তে নামে পিবিআই। তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়া হলেও বাদীর অভিযোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাদীর নাতি নিজ ইচ্ছায় মডেল মসজিদে গিয়েছিল এবং পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

পরে জাহানারা বেগম জানান, চুরির অভিযোগে তার দুই নাতিকে আটকে রাখা হয়েছিল। এ কারণেই প্রতিশোধ নিতে তিনি মামলা করেছেন।

তবে ইমাম ও খতিব তানভীর হোসেনের দাবি, মসজিদের মালামাল চুরির ঘটনায় স্থানীয় মুসল্লিদের সহযোগিতায় জাহানারা বেগমের নাতিকে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়েছিল। বয়স কম হওয়ায় পরে তাকে মুচলেকায় ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপরই তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করা হয়।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে জাহানারা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরোয়ানা পর্যালোচনা করে জানা গেছে, তিনি ওই মামলার বাদী এবং তার বিরুদ্ধেই পরোয়ানা রয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হবে।