logo

মা-বাবা ফিরতে পারলেও নদীতে তলিয়ে যায় শিশু ইসরাফিল

মা-বাবা ফিরতে পারলেও নদীতে তলিয়ে যায় শিশু ইসরাফিল

স্বামী, স্ত্রী ও তিন বছরের শিশুকে নিয়ে ফেরা হচ্ছিল ঢাকায়। যে বাসে ফিরছিলেন তারা, সেই বাসটি পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে। ডুবে যাওয়ার সময় স্বামী ও স্ত্রী বেঁচে ফিরলেও তলিয়ে যায় তাদের শিশু সন্তান।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে উঠেছিলেন খোকসা উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার হোসেন, তার স্ত্রী নুরনাহার ও তিন বছরের একমাত্র ছেলে ইসরাফিল হোসেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) নিজ বাড়িতে দেলোয়ার ও নুরনাহারের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, দেলোয়ার ঢাকায় একটি প্রতিষ্ঠানে গাড়ি চালানোর প্রশিক্ষণ দেন। ঈদের ছুটি শেষে পাংশা বাসস্ট্যান্ড থেকে তারা ঢাকায় ফিরছিলেন।

দেলোয়ার হোসেন বলেন, ছেলেটা আমার হাত ধরে ছিল। বাস পড়ে যাওয়ার সময় ভেতরে পানি ঢুকে যায়। হঠাৎ ছেলে আমার হাত থেকে ছিটকে যায়। ছেলে চিৎকার দিয়ে ডাকে। এরপর কিছু মনে নেই। আমি কীভাবে ভেসে উঠছি তা আল্লাহ জানেন।

নুরনাহার বলেন, বাস তলিয়ে যাওয়ার সময় সবাই বাসের ভেতর ঘুরতে থাকে। কখন কীভাবে বের হয়েছি কিছুই মনে নেই। শুধু কানে চিৎকার শুনতে পেয়েছি। ভেসে ওঠার পর কয়েকজন আমাকে একটা দড়ির সাহায্যে টেনে তোলে। উঠে নৌকার ওপর স্বামীকে দেখতে পাই। কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পাইনি।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ছেড়ে আসা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি দৌলতদিয়া ঘাটে ফেরিতে ওঠার অপেক্ষায় ছিল। বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে পন্টুন থেকে বাসটি নদীতে পড়ে তলিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের তথ্য জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাদের মধ্যে ১১ নারী, ৮ শিশু ও ৭ পুরুষ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল থেকে ১৪ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে দুটি মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি মরদেহ হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।