logo

পাবনায় বাস-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩/নাতির লাশ নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল নানা-নানির

নাতির লাশ নিয়ে ফেরার পথে প্রাণ গেল নানা-নানির
ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করে পুলিশ। ছবি: এশিয়া পোস্ট

পাবনার আতাইকুলায় লাশবাহী একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালক এবং মরদেহের সঙ্গে থাকা নানা-নানি রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে পাবনা-রাজশাহী মহাসড়কের আতাইকুলা এলাকার সড়াডাঙ্গী আলিম মডেল মাদ্রাসার সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন সাঁথিয়া উপজেলার মাহমুদপুর গ্রামের সলিম প্রামাণিক ও স্ত্রী বুলু খাতুন এবং পাবনা শহরের উত্তর শালগাড়িয়ার গোলাববাগ এলাকার জামাল শেখের ছেলে অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজ শেখ (২৮)। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন সলিম প্রামাণিকের মেয়ে নাজমিন খাতুন ও নাতি রিয়াদ সরদার।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শিশু কেয়া খাতুনের মরদেহ নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স সাঁথিয়া উপজেলার উদ্দেশে রওনা দেয়। সকাল সাড়ে ৭টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি আতাইকুলার সড়াডাঙ্গী আলিম মডেল মাদ্রাসার সামনে পৌঁছালে ঢাকা থেকে পাবনাগামী পাবনা এক্সপ্রেস বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্স চালক রাজ শেখ এবং মৃত শিশু কেয়ার নানি বুলু খাতুন নিহত হন। আহত হন অ্যাম্বুলেন্সে ও বাসে থাকা আরও কয়েকজন। খবর পেয়ে মাধপুর হাইওয়ে থানা পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে রাজশাহী নেওয়ার পথে কেয়ার নানা সলিম প্রামাণিকের মৃত্যু হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবনার মাধপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান বলেন, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে কেয়া খাতুন নামের এক মেয়ের লাশ নিয়ে পাবনার বাড়িতে ফিরছিলেন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা পাবনা এক্সপ্রেস নামে বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।

ওসি আরও বলেন, আহত তিনজনকে উদ্ধার করে প্রথমে পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ সময় দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সলিম প্রামাণিক নামে আরও একজন মারা যান। নিহত সলিম প্রামাণিক ও বুলু খাতুন অ্যাম্বুলেন্সে থাকা মৃত কেয়ার নানা ও নানি।

ওসি মাহবুবুর রহমান আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর কিছু সময় মহাসড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলেও পুলিশ ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ করছে হাইওয়ে পুলিশ।