logo

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনি ককটেল আতঙ্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচনি ককটেল আতঙ্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটের মাঠে ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধার নিয়ে তীব্র আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জনবসতিপূর্ণ এলাকা, আম বাগান, পরিত্যক্ত বাড়ি ও ফসলি জমি থেকে বিপুল ককটেল ও গানপাউডার জব্দ করেছে।

পুলিশ ও র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের জিলানি মোড় সংলগ্ন আম বাগান থেকে ২ কেজি ১৫০ গ্রাম গানপাউডার উদ্ধার করা হয়। এরপর ২২ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার নিমগাছি-সরকারপাড়া এলাকা থেকে ৫টি ককটেল, তিন দিন পর রহনপুরে নদীর পাড় থেকে ৮টি ককটেল, ৩০ জানুয়ারি শিবগঞ্জের ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নে ৩ কেজি ৩০৬ গ্রাম গানপাউডারসহ ককটেল তৈরির উপকরণ জব্দ করা হয়।

২ ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকায় একটি পরিত্যক্ত বাড়ি থেকে ৫টি ককটেল, ১ কেজি গানপাউডার ও ককটেল তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এরপর ৩ ফেব্রুয়ারি রাতের বেলা গোমস্তাপুর থানার চত্বর ও স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সবশেষ, শিবগঞ্জের পারঘোড়াপাখিয়া এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ৬ কেজি ২৭০ গ্রাম গানপাউডার, ৩১টি জর্দার কৌটা ও কাচের গুঁড়া জব্দ করা হয়। র‌্যাব জানায়, এই বিস্ফোরক দিয়ে নির্বাচনের আগে জেলাজুড়ে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ছিল।

এই ঘটনায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। গোমস্তাপুরের রহনপুর বাজারের ব্যবসায়ী মো. আশরাফুল আলম বলেন, ‘ভোটের দিন যত কাছে আসছে, ততই আমরা আতঙ্কিত। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ শিবগঞ্জের গৃহিণী তাহেরা খাতুন বলেন, ‘সরিষা ক্ষেত, আম বাগান থেকে বিস্ফোরক পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি থানাতেও ককটেল হামলা হয়েছে। সংবাদে এসব দেখলে ভয় লাগে।’ প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া যুবক সায়েম আলী বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে হবে কি না, তা নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ বলেন, ‘থানা চত্বরে ককটেল ফাটানো হয়েছিল ভোটারদের ভয় দেখানোর জন্য। এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে ভোটারদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। নির্বাচনের দিন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টহল জোরদার করলেও একের পর এক ককটেল ও বিস্ফোরক উদ্ধার ভোটারদের মধ্যে নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।